ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্ব বাংলাদেশের

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্ব বাংলাদেশের

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির উপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বিশ্ব নজরে থাকা অঞ্চলটিকে একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেব গড়ে তোলার ব্যাপারেও আগ্রহী বাংলাদেশ।

ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) ২২তম কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স (সিওএম) বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন আজ সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তঃআইওআরএ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাধা দূরীকরণের মাধ্যমে আইওআরএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এখন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি তিনি বৈঠকে তুলে ধরেছেন জানিয়ে বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অনেকের নজর রয়েছে। এই অঞ্চল নিয়ে বিভিন্ন রকমের প্রচেষ্টা হচ্ছে। এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিভিন্নভাবে একেকজন হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এখানকার রিসোর্স কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যাপারে তারা আলোচনা করেছি।

ড. মোমেন জানান, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও দূষণ রোধে সদস্য দেশগুলো একমত হয়েছে। সমুদ্র সম্পদ নানা ভাবে চুরি হচ্ছে। আমাদের জাহাজে জলদস্যুদের আক্রমণ হয়। সাগর থেকে এসে অবৈধভাবে মাছ ধরে, কেউ কেউ অতিরিক্ত মাছ আহরণ করে, সম্পদ নিয়ে যায়।আমরা এসব ঠেকাতে চাই। অন্যায়ভাবে বা অবৈধভাবে যাতে এসব সম্পদ আহরণ না হয় সে বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতে এবং ভারত প্রশান্ত মহাসাগরকে রক্ষা করতে আমরা বৈঠকে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুই দশকেরও বেশি সময় পর আইওআরএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাজারের যে সম্ভাবনা রয়েছে- তা সর্ম্পূণভাবে কাজে লাগানো হয়নি।’ তিনি বলেন, আইওআরএ টেকসই সংলাপ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এখন এটি এই অঞ্চলের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে প্রধান চালিকাশক্তি। একথা মনে রেখেই সদস্য রাষ্ট্রগুলো ‘আইওআরএ-উন্নয়ন উদ্যোগ (আইডিআই)’ গ্রহণ করেছে এবং এটা বর্তমানে আঞ্চলিক ঐক্য, অর্থনৈতিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।

আইওআরএ’র মহাসচিব সালমান আল ফারিসি বলেন, সম্মেলনে আমরা কোন সামরিক বিষয়ে নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতার উপর জোর দিয়েছি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম জানান, সম্মেলনে ৮টি সুনির্দিষ্ট ফোকাস ছাড়াও ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইওআরএ’র পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বৈঠকে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৮ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন। আইওআরএ-র ২৩ সদস্য ও ১০ ডায়লগ পার্টনার দেশের মোট ১৩৪ জন সরকারি প্রতিনিধি এই ঢাকা সম্মেলনে অংশ নেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com