‘শিল্পায়নের জন্য অগ্নিনিরাপত্তা খুবই জরুরি’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।ছবি : কালবেলা

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘শিল্পায়নের জন্য অগ্নিনিরাপত্তা খুবই জরুরি। দেশ উন্নত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে বাড়ছে শিল্পকারখানা। তাই শিল্পকারখানার নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রয়োজন।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) আয়োজিত অষ্টম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইসাব সভাপতি জহির উদ্দিন বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মইন উদ্দিন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় নতুন করে ফায়ার সার্ভিসের ডিপো স্থাপন করা হয়েছে এটা দেশের বড় অর্জন। সব কিছুতেই আমাদের অর্জন আছে এ অর্জন আরও বাড়াতে হবে। ব্যবসা বাণিজ্যের শিল্পের জন্য এসব যন্ত্রপাতি খুবই প্রয়োজন। সরকার সব ধরনের সহযোগিতা সব সময় দিতে প্রস্তুত।’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পথে আছে। ইলেকট্রনিক্স সেফটির পণ্য খাতে বাজারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতার দায়িত্ব তাদেরই। লোকাল ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক অনেক পণ্য আছে এখানে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক বেশি। শিল্পায়নের জন্য এগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্রিজ উৎপাদন হবে এটা কেউ কল্পনাও করেনি। এখন বাংলাদেশ থেকে টিভিও রপ্তানি হচ্ছে। আপনাদের শিল্পেও অনেক সম্ভাবনা আছে, আপনারা এটাকে কাজে লাগান।’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসাব আয়োজিত এক্সপোতে অতিথিরা।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসাব আয়োজিত এক্সপোতে অতিথিরা।ছবি : কালবেলা

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক দিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনাকে মোকাবিলা করছি। বিএমডিপো সর্বশেষ উদাহরণ। যারা সেখানে জীবন দিয়েছেন তাদের আমরা অগ্নিবীর হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমি বিল্ডিংয়েরর মালিক ও ফ্যাক্টরি মালিকদের অনুরোধ করেছি অগ্নিনির্বাপক রাখার জন্য।’

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘শিল্পায়নের এ সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো দরকার। ১০০ সবুজ শিল্পকারখানার মধ্যে ৪৮টি বাংলাদেশের, এটা নিয়ে আমরা গর্বিত। এখন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আমরা আরও এগিয়ে যাব। এসব লোকাল সেফটি নিশ্চিতের জন্য ইসাব জমি চেয়েছে আমিও সরকারকে অনুরোধ করব তাদের জমি দেওয়ার জন্য।’

মেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকংসহ ৩০টিরও বেশি বিভিন্ন দেশের ১৬০টিরও বেশি বিশ্বব্যাপী স্বনামধন্য এবং নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। এই ট্রেড এক্সপোজিশনটিতে ২৫টি প্যাভিলিয়ন এবং ৫০টি বুথে সারা বিশ্ব থেকে অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কিত খোদাই প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।

আইএফএসএসই-এর অষ্টম সংস্করণ ৪টি বিশেষভাবে ডিজাইন করা প্রযুক্তিগত সেমিনার আয়োজন করছে, যার মধ্যে দুটি আজ বৃহস্পতিবার হবে এবং বাকি দুটি হবে আগামীকাল। এ ছাড়া শেষ দিনে একটি আকর্ষণীয় গোলটেবিল আলোচনাও হবে। পাশাপাশি, ইসাব এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে ‘ইসাব সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২২’-এর আয়োজন করেছে।

মেলাটি ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নিবন্ধিত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। বিনামূল্যে নিবন্ধনের জন্য এরই মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া, অংশগ্রহণকারীরা ইভেন্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও নিবন্ধন করতে পারেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com