চলতি বছরের প্রথমার্ধে জেআরসি বৈঠক হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথমার্ধে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসির) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান।

‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খুব ভালো প্রতিবেশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারেরর প্রতিবেশী নীতি ‘গেম চেঞ্জার’। আর বিশ্বের সব দেশই ভালো প্রতিবেশীই প্রত্যাশা করে। বর্তমান সরকার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অংশীদারিত্বমূলক সমৃদ্ধি এবং পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত করতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশে সস্তা রাজনীতি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঝুঁকি নিয়ে ট্রানজিট করেছিলেন। এখন সেই সুফল সবাই ভোগ করছে।

বিশ্বে যা-ই ঘটুক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বিদ্বেষ নয়’ অক্ষুণ্ন থাকবে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ কখনোই আপস করবে না। তবে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের কাছে ভালো প্রতিবেশী হিসেবে গড়ে ওঠা সম্পর্ক জোরদার অব্যাহত রাখবে। আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিবেশীরাও এ সম্পর্ক ধরে রাখবে। বিশেষ করে বিশ্ব যখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তখন এগুলো আরও প্রাসঙ্গিক।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী পানি সংকট সমাধানে ভারত ছাড়াও চীন ও ভুটানের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পানি সংকট সমাধানে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর গত বছর জেআরসির বৈঠক হয়েছে। চলতি বছরে প্রথমার্ধে জেআরসির বৈঠক হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হাইড্রো রিসোর্স নেই। সে কারণেই প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে জ্বালানি সহযোগিতা নিতে চাই।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন। সেমিনারে চারটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন ড. লাইলাফুর ইয়াসমিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) এটিএম রকিবুল হক, বিআইআইএসএস’র গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির ও বিআইএসএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম আশিক রহমান।

বক্তারা ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং বর্ধিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে বহুপাক্ষিকতাকে উন্নীত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সমন্বয় ভালো হলে কূটনীতিও ভালো হবে। সে কারণে সমন্বয়ে জোর দিতে হবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিশ্বের দেশগুলোকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বৈদেশিক নীতি প্রণয়নে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশকে সতর্কতার সঙ্গে এ সময় অতিক্রম করতে হবে।

সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন থিংক ট্যাংক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com