’৭১-এ নির্যাতনের শিকার নারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার দাবি

’৭১-এ নির্যাতনের শিকার নারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার দাবি

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার নারীরা তাদের স্বীকৃতি দাবি করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সম্মিলনে এমন দাবি করেন তারা। এতে তিন জেলার মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার নারীরা ছাড়াও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা নারীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নারীপক্ষের সদস্য শিরীন হক নির্যাতনের শিকার এসব নারীদের দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সাফিয়া আজিম ও কামরুন নাহার।

শিরীন হক বলেন, ২০১১ সালে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে নারী নির্যাতন পক্ষে আমরা মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করি। আমরা মনে করি, নির্যাতনের শিকার নারীর অধিকার আদায়ের প্রশ্ন এলে সবার আগে একাত্তরের নির্যাতনের শিকার নারীর অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার এই নারীদের 'মুক্তিযোদ্ধা'র সম্মান দিলেও সবাই এখনো তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। তাদের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত হয়নি ৫০ বছরেও। বয়সের ভারে তাদের অনেকেই এখন আর কোনো কাজ করতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে।

শিরীন হক জানান, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের ৮৫ জন একাত্তরের নির্যাতনের শিকার নারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারীপক্ষ। এদের কেউ কেউ এখন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও অনেকেই দীর্ঘদিন আবেদন করে কোনো সুরাহা করতে পারছে না। সরকারি ভাতা কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে একাত্তরের নির্যাতনের শিকার কয়েকজন নারী মুক্তিযোদ্ধা তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছিলেন, বর্তমানে আর পারছেন না বলে জানান তিনি।

বিজয় দিবসকে সামনে রেখে শিরীন হক সব নারী মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করেন। পাশাপাশি নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com