মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি হচ্ছে ঘন চিনি

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি হচ্ছে ঘন চিনি
প্রতীকী ছবি।

মিথ্যা ঘোষণায় দেশে আসছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর আমদানি নিষিদ্ধ ঘন চিনি। সম্প্রতি এর ৩৩ টনের দুটি চালান আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। কর্মকর্তারা জানান, দেখতে একই রকম হওয়ায় সাইট্রিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম সাইট্রেটের নামে ঘন চিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) আমদানি করছে একাধিক চক্র।

সূত্র জানায়, অধিক মুনাফার জন্য কিছু ব্যবসায়ী আইসক্রিম, জুস ও মিষ্টিজাতীয় পণ্য তৈরিতে ঘন চিনি ব্যবহার করেন। এক কেজি ঘন চিনি ৪০ থেকে ৫০ কেজি সাধারণ চিনির সমান কাজ করে। দেশে এর কোনো উৎপাদন নেই। আসে চীন ও পাকিস্তান থেকে। কিছু চালান কাস্টমসে আটক হলেও অধিকাংশই কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. সাইফুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ঘন চিনি আমদানি নিষিদ্ধ। কাস্টমস দিয়ে এটি আমদানি করে যাতে বাজারে নিতে না পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে এর বেশ কিছু চালানও আটক করেছি। বিশেষ করে দেখতে প্রায় একই রকম হয়—এমন পণ্যর ঘোষণা দিয়ে ঘন চিনি আমদানি করা হয়।’

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিটফোর্ড রোডের হৃদা ইন্টারন্যাশনাল আনকোটেড ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার

ঘোষণায় ঘন চিনি আমদানি করে। চট্টগ্রাম কাস্টমস গত ২৫ সেপ্টেম্বর চালানটি আটক করে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা শেষে নমুনা নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এতে ১৪ টন ঘন চিনি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ পণ্য অমদানি করে হৃদা ইন্টারন্যাশনাল কাস্টমস আইনের আওতায় অপরাধ করেছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। প্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে কিনা, তাও যাচাই করে দেখবে মানি লন্ডারিং শাখা।

এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের প্রতিষ্ঠান অদ্রোতা ব্রাদার্সও একই কায়দায় ১৯ টন ৪৫০ কেজি ঘন চিনি আমদানি করে। পরীক্ষা শেষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর কাস্টমস কর্মকর্তারা ঘন চিনির বিষয়টি নিশ্চিত হন। গত অক্টোবরে কেরানীগঞ্জের এ/এস এশিয়া করপোরেশন পাকিস্তান থেকে অ্যাসপারটার্ম (পাউডার) ঘোষণায় ১ টন ঘন চিনি আমদানি করে।

এর আগে গত ২৫ মে চীন থেকে আনা ১৯ টন ঘন চিনি জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ১৮ মে চীনের জিনদাও বন্দর থেকে জাহাজে ঘন চিনি আসে চট্টগ্রাম বন্দরে। সেটিও পরীক্ষার পর আটক করা হয়। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে দেশে ঘন চিনি আমদানি নিষিদ্ধ হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com