অনলাইনে এক লাখ রিটার্ন জমা

ই-রিটার্ন দাখিল ১ লাখের মাইলফলক অর্জন করায় কেক কেটে তা উদযাপন করছেন আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম
ই-রিটার্ন দাখিল ১ লাখের মাইলফলক অর্জন করায় কেক কেটে তা উদযাপন করছেন আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত ১ লাখ করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ১ লাখ করদাতার মাইলফলক অর্জন কেক কেটে উদযাপন করেছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। এজন্য এনবিআরের চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে কেক কেটে মাইলফলক উদযাপন করেছেন। এর আগে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাড়াতে সরকার প্রণোদনা দিয়েছে। গত বছরের বাজেটেও বলা হয়েছিল যেসব করদাতা প্রথমবার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করবেন, তারা ২ হাজার টাকা কর ছাড় পাবেন। কিন্তু সার্ভারের জটিলতা, করদাতাদের আন্তরিকতার ঘাটতির ফলে তখন বিশেষ সাড়া পায়নি এনবিআর। এ বছর বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর অনলাইনে রিটার্ন জমা শুরু হয় গত ২৫ আগস্ট।

গত বছরের অক্টোবরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে চালু করে এনবিআর। গতবার সব মিলিয়ে প্রায় ৭২ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন।

ই-রিটার্ন দাখিল ১ লাখের মাইলফলক অর্জন করায় কেক কেটে তা উদযাপন করছেন আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম
বৈধ নৌযান ১৫ হাজার অবৈধ দুই লাখ!

অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এক শীর্ষ কর কর্মকর্তা বলেন, বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি, চলতি বছরে ৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দেবেন। জানা গেছে, শুধু নভেম্বর মাসের ২২ দিনে ৫ লাখের বেশি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। আগামী ৩০ নভেম্বর সাধারণভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। এর পরেও অবশ্য রিটার্ন দাখিল করা যাবে, তবে সেজন্য করদাতাকে আবেদন করে সময় নিতে হবে। নতুবা জরিমানা দিতে কবে।

আয়কর রিটার্ন দাখিল বাড়াতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সব টিআইএনধারীকে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৩৮ ধরনের কাজে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। এজন্য রিটার্ন দাখিল বাড়ছে। দেশে টিআইএনধারী বেশি থাকলেও আয়কর রিটার্ন জমা পড়ে কম। গত অর্থবছরে প্রায় ৩০ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। কিন্তু টিআইএনধারী আছেন প্রায় ৭৫ লাখ।

৫১ কোটি টাকা খরচ করে ২০১৬ সালে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। চার বছর চালু থাকার পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত তা চলে। ওই সময় প্রতিবছর পাঁচ-ছয় হাজার করদাতা বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতেন। ২০১৯ সালের পর আর কেউ অনলাইনে রিটার্ন দিতে পারেননি। এই প্রকল্পের ঠিকাদার ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠানও কাজ বুঝিয়ে না দিয়ে চলে যায়। পরে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের একটি বিশেষ দল মাত্র ২ কোটি টাকা খরচ করে নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা, কর পরিশোধ, রিটার্ন প্রস্তুত, নিবন্ধন নেওয়াসহ যাবতীয় কাজ করা যায়। এমনকি রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারও পাওয়া যায়। অনলাইনে রিটার্ন দিতে হলে প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত সবচেয়ে কম। এখন তা ১০ শতাংশের নিচে।

এই হার প্রতিবেশী দেশ নেপালের অর্ধেকের চেয়েও কম। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বা পাকিস্তানও এদিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। এ ছাড়া সামগ্রিক রাজস্বে প্রত্যক্ষ করের চেয়ে পরোক্ষ করের অনুপাত বেশি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com