আমাদের অর্থনীতি এখনো গতিশীল, নিরাপদ আছে : প্রধানমন্ত্রী

যশোরে বিএএফ একাডেমিতে বিমানবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
যশোরে বিএএফ একাডেমিতে বিমানবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা থেকে আমরা যেন উত্তরণ ঘটাতে পারি, সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সজাগ। আমাদের অর্থনীতি এখনো গতিশীল আছে, নিরাপদ আছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে যশোরে বিএএফ একাডেমিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ ২০২২ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যখন পাকিস্তানি বন্দিখানা থেকে ফিরে আসেন, তার পর থেকেই তিনি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন। বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে যা যা প্রয়োজন, হেলিকপ্টার, বিমান, যুদ্ধবিমান, এয়ার ডিফেন্স রাডার সবকিছুই তিনি সীমিত সম্পদ দিয়ে করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির পিতাকে হত্যার পর এ দেশে বারবার ক্যু হয়, বিমানবাহিনীর প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা-সৈনিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ’৭৫-এর পর থেকে ’৯৬ পর্যন্ত নানা ঘটনা ঘটে। ’৯৬ সালে ২১ বছর পরে আমরা সরকারে আসি এবং বিমানবাহিনীকে আবার নতুনভাবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিই।

যশোরে বিএএফ একাডেমিতে বিমানবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনীর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে। এ সময় বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে আওয়ামী লীগের দুদফায় নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা এই একাডেমিতে একদিন বলেছিলেন, ইনশাআল্লাহ এমন দিন আসবে, আমাদের একাডেমির নাম শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়, সমগ্র দুনিয়াতে সমান সম্মান অর্জন করবে। আজকে আমরা দেখি অন্যান্য দেশ থেকেও আসছে, ট্রেনিং নিচ্ছে। যেমন নেপাল, ফিলিস্তিন, গাম্বিয়ার অফিসাররা এখানে এসেছেন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের সরকার সব সময় বিমানবাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ-আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সেভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শুধু অপারেশন ও প্রশিক্ষণই নয়, আমরা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কল্যাণকর পদক্ষেপও নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি চাই, আমাদের ক্যাডেটদের জীবন সুন্দর হোক। আমরা যেন আমাদের ক্যাডেটদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। শান্তিরক্ষা মিশনে আমরা কাজ করি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চলতে হয়। তাই প্রশিক্ষণের ওপর সব থেকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষণ উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করে—এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে। আমরা স্বাধীন দেশ। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব, এটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, অনেক দেশে যখন দুর্ঘটনা-দুর্বিপাক হয়, আমরা তাদের সহযোগিতা করি। আবার আমাদের দেশে ঝড়-বন্যা বা কোনো রকম দুর্ঘটনা ঘটে, আমাদের বিমানবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের পাশে দাঁড়ায়। জনগণের সেবা করে, এটাই হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com