অগ্নি নিরাপত্তায় প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি : সেমিনারে বক্তারা

৮ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোতে বক্তারা
৮ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোতে বক্তারাছবি : কালবেলা

সচেতনতার অভাবে বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু ঘটে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা হলেও বাংলাদেশে এটা শুরু হয়নি। এজন্য নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে। অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারে এসব পরামর্শ দেন বক্তারা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ৮ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোতে (আইএফএসএসই) এই সেমিনারের আয়োজন করে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব)। চকবাজারের নিমতলী, তাজরীন ফ্যাশন এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের বিএম ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনার মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে এজন্য দুই দিনব্যাপী এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে পাঠ্যপুস্তকে অগ্নি নিরাপত্তার বিষয় যুক্ত করা, প্রশিক্ষণ এবং পুরান ঢাকাসহ আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর দাবি জানানো হয়।

ইসাবের যুগ্ম সচিব জাকির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবনে আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি স্কুলে বাচ্চাদের এই বিষয়ে জ্ঞান দিতে হবে, তাদেরকে সচেতন করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাচ্চাদের এ বিষয়ে সচেতন করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে এটা শুরু হয়নি। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকেও অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি সংযুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এই খাতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। এজন্য ট্রেনিং দিতে হবে। বিনিয়োগ করতে হবে। বর্তমানে অগ্নি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্প কারখানা সবসময় মনিটরিং করতে হবে। দরকার হলে নিয়মকানুন মানতে বাধ্য করতে হবে। তিনি বলেন, সবাই জানে আগুন ধরার অন্যতম কারণ গ্যাস লাইন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ইসাবের পরিদর্শক ইঞ্জিনিয়ার মহিদুল ইসলাম বলেন, পোশাক কারখানার তুলনায় আবাসিক এলাকার ভবনগুলো পিছিয়ে। পোশাক কারখানাগুলো বায়ারদের চাপে অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করলেও আবাসিক ভবনের মালিকরা এটা নিয়ে উদাসীন। সরকারকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, অগ্নি নিরাপত্তায় নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। কারখানায় অগ্নি নির্বাপক কাজে নিয়োজিতরা প্রশিক্ষণ নিলে নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষা নিতে পারবে। তিনি বলেন, কারো একার পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com