গ্রামীণ টেলিকমের এমডিসহ ৩ জনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশন।পুরোনো ছবি

শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎসহ ২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল ইসলামসহ তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার। নাজমুল ইসলাম ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক এমডি আশরাফুল হাসান ও পরিচালক পারভীন মাহমুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট গ্রামীণ টেলিকমের এমডি নাজমুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুদক। এবার তাকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞসাবাদ করা হলো।

দুদকের টেবিলে থাকা অভিযোগে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন।
অর্থ আত্মসাৎ : গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের আরেক নেতা গ্রেপ্তার

তাদের পাওনা ৩৬৪ কোটি ১৭ লাখ ৯ হাজার ১৪৬ টাকা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফির নামে ৬ শতাংশ অর্থ কর্তন, কল্যাণ তহবিলে বরাদ্দকৃত সুদসহ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করাসহ কোম্পানির ২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎসহ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ৩১ জুলাই তিন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ারকে প্রধান করে এ দলে সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার ও মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকীকে রাখা হয়।

অনুসন্ধান দল গত ১ আগস্ট অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র দুদকে জমা দেওয়ার জন্য গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওকে নোটিশ দেয়। ওই নোটিশ পাওয়ার পর দেয় গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র দুদক জমা দেয়। এর পরই অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com