আইনের শাসন না থাকায় দেশে ধর্ষণ বাড়ছে

আইনের শাসন না থাকায় দেশে ধর্ষণ বাড়ছে
প্রতীকী ছবি।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালিত হবে আজ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার মাঝে ঐক্য গড়ি, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করি।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ থেকে ৯-এ হাজিরা দিতে এসেছেন মামলার ভিকটিম নারী-শিশু। গত ২২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-৪-এ ষষ্ঠ দিনের হাজিরা দিতে এসেছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের নাজমা। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে এত বছর শ্বশুরবাড়ি ছিলাম। বছর পাঁচেক আগে চাকরি নিয়ে তিনি সৌদি যান। সেখান থেকে পালিয়ে এসে আমাকে বাবার বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চাপ দেয়। এটা করতে অস্বীকার করায় আমাকে লাঠি, পাইপ দিয়ে পেটায়। টিকতে না পেরে বছর খানেক আগে মামলা করি।’

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এর তথ্য মতে, ২০২১ সালে ২১৮টি মামলা হয়েছে। ১৫০টি মামলার রায় হয়নি। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ৩১৭টি মামলা হয়েছে। ২৫৩টি মামলার রায় হয়নি। ৬৪টি মামলার রায় হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে আসা নারী-শিশুদের মধ্যে রয়েছেন পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার, পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, গৃহপরিচারিকা নির্যাতন, পাচার ইত্যাদি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারী নির্যাতনের তথ্য মতে জানা যায়, ২০২১ ও ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ধর্ষণ হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৮ ও ৬৪৩, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭৯ ও ২০৫, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩১ ও ৩০, ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে ১৫৫ ও ১২৮, শ্লীলতাহানি ৩৩ ও ৩৩, যৌন নিপীড়নের শিকার ৯৫ ও ১১০। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে যথাক্রমে ৭ ও ৮ জন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদ সূত্রে জানা যায়, নিম্ন আদালতে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পুরোনো মামলা ছিল ১১১, ৮৮ এবং ৮৩টি । ২০১৭ ও ২০১৯ এ নতুন কোনো মামলা নেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে ৪টি নতুন মামলা নেওয়া হয়েছে।

২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ১১, ৯ ও ১০টি মামলার রায় হয়েছে। উচ্চ আদালতে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৩৫, ৩৬ ও ৩০টি পুরোনো মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালে ৪টি নতুন মামলা নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ এ নতুন কোনো মামলা নেওয়া হয়নি। ২০২১ সালে ১টি নতুন মামলা নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৩ ও ৬টি মামলার রায় হয়েছে। ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে কোনো মামলার রায় হয়নি।

দেশে ধর্ষণের মাত্রা প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের পুলিশ পরিদর্শক কুইন আক্তার বলেন, ‘মামলা তদন্তের পাশাপাশি বিদ্যালয় এবং গার্মেন্টগুলোতে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করছি। ৭ দিনে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন নাম্বার ০১৩২০০৪২০৫৫ খোলা থাকে। নারী-শিশুর যে কোনো সমস্যায় এর মাধ্যমে আমরা আইনি পরামর্শ ও মামলা সহায়তাও দিয়ে থাকি।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘আইনের শাসন না থাকায় ধর্ষণের মাত্রা বাড়ছে। অপরাধের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকায় আইন প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি প্রভাবিত হয়। যথাসময়ে এই মামলার বিচার হওয়া দরকার। প্রশাসনিক চাপ থাকলে বিচারও দ্রুত হয়। এক্ষেত্রে বিচারকের দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ হতে হবে। পুলিশের তদন্ত রিপোর্টও দ্রুত দিতে হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com