‘কারারক্ষী নিয়োগ জালিয়াতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ’: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট
হাইকোর্টপুরোনো ছবি

সারাদেশের কারাগারে কারারক্ষী পদে ৮৮ জনের নিয়োগে জালিয়াতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা এক মাসের মধ্যে জানাতে কারামহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন্স) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিটের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে সিলেট কারাগারে অন্য এক জনের নাম পরিচয় ব্যবহার করে ১৮ বছর ধরে কারারক্ষী পদে চাকরি করা জহিরুলকে সরিয়ে প্রকৃত জহিরুলকে নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ ওেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্র সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপমহাপরিদর্শক, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, কারারক্ষী হিসেবে চাকরিরত জহিরুল ইসলামকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। সঙ্গে ছিলেন মো. আবুল কালাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই ‘চাকরি ফিরে পেতে চান কুলাউড়ার জহিরুল : জালিয়াতি করে কারারক্ষী পদে চাকরি, ১৮ বছর পর তদন্তে প্রমাণিত!’ শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভিতে ২০০ কারারক্ষী পদে নিয়োগ জালিয়াতি বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে রিটটি করেন ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম এশু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য ২০০৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কুলাউড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এশু। নিয়োগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়েছিল। কিন্তু পরে আর যোগদানপত্র না পাওয়ায় চাকরির আশা ছেড়ে শহরে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পর জানতে পারেন প্রতারণার মাধ্যমে তার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ওই পদে চাকরি করছেন আরেকজন। এরইমধ্যে জালিয়াতির বিষয়টির তদন্তেও সত্যতা পাওয়া গেছে।

সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল সুপার ইকবাল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। এর মধ্যে এশু চাকরি ফিরে পেতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২শ’ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের জাল-জালিয়াতি বা একজনের স্থলে আরেকজন শারীরিকভাবে কাজ করছেন বলে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আসে। এ বিষয়টি যখন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে তখন ওনারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং এ বিষয়গুলো তদন্ত করেছেন। সেই তদন্তে ২০০ জনের মধ্যে ৮৮ জনের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৩ জন পাওয়া গেছে, তারা প্রকৃত ব্যক্তির পরিবর্তে কর্মরত। আবার অনেকে রয়েছেন তারা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, যেটা ওনার প্রকৃত ঠিকানা নয়। আবার অনেকে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতি করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, যারা এ ধরনের জালিয়াতি করেছে, এটা ফৌজদারি অপরাধ। প্রশাসনিক শিথিল যে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে এটা যথেষ্ট হবে না। কারণ যে ব্যক্তি অন্যের স্থলে চাকরি করছেন, তিনি তো চাকরিই পাননি। ওনাকে কীভাবে কর্মরত রাখেন। চাকরিচ্যুত তো বলা যাবে না, সে চাকরিতে যেন উনি থাকতে না পারেন সে ব্যবস্থা নিয়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com