হোশি কুনিও হত্যা : ৪ জঙ্গির ফাঁসি বহাল

জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলেও খালাস পেয়েছেন একজন।
জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলেও খালাস পেয়েছেন একজন। পুরোনো ছবি

­­সাত বছর আগে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যার ঘটনায় চার আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া আরেক আসামি ইছাহাক আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মামলায় অভিযুক্ত সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সদস্য।  যাদের ফাঁসি বহাল রয়েছে তারা হলেন—জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন (২১), সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক (২৩), সাখাওয়াত হোসেন (৩২) ও আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪)।

জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলেও খালাস পেয়েছেন একজন।
সাংবাদিক শাকিল হাসানকে হত্যাচেষ্টা : মামলায় রায় পেছাল

আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ পলাতক। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বাকি তিন আসামি মাসুদ রানা, ইছাহাক ও লিটন কারাগারে আছেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য বুধবারের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এস কে) মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ মান্না, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাকির হোসেন মাসুদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আহসান উল্লাহ ও মো. শামসুল ইসলাম। পলাতক এক আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান খান শুনানিতে ছিলেন।

পরে এএজি নির্মল কুমার দাস জানান, হাইকোর্ট চার জঙ্গির ফাঁসি বহাল রেখেছেন। এ ছাড়া জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলীকে খালাস দিয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে হত্যার দায়ে জেএমবির পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ওই পাঁচজনের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।

ওই আপিলের পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পরে সেটি শুনানির বেঞ্চ নির্ধারণ হলে আপিলের শুনানি শুরু হয় গত ৪ সেপ্টেম্বর  থেকে। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর আট কার্যদিবসে শুনানি শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া চার্জশিটভুক্ত আট আসামির মধ্যে অন্য দুজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাদের মামলার অভিযোগ থেকে বাদ দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গজপুরি এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালে অভিযোগ গঠনের আগে ১ আগস্ট রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর বিদ্যানন্দ এলাকার সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ওরফে চঞ্চল ওরফে সবুজ ওরফে রবি অভিযোগ গঠনের পর ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ ছাড়া বিজয় নামে আরেকজনের জড়িত থাকার তথ্য পেলেও পুলিশ তাকে শনাক্ত করতে পারেনি।

জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলেও খালাস পেয়েছেন একজন।
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা : স্বামীর যাবজ্জীবন জেল

জেএমবির ওই আট জঙ্গির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী।

পরে মামলাটি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে স্থানান্তর হলে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় বাদীপক্ষের ৫৫ সাক্ষী এবং আসামিপক্ষের একজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন। তিনি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে উন্নত মানের ঘাসের চাষ করতেন। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর ওই কাচু আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সী কুনিওকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com