ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ডিবির ৭ সদস্যের কারাদণ্ড

সাজাপ্রাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।
সাজাপ্রাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় করা মামলায় কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিষ্কৃত সাত সদস্যকে দুই ধারায় ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে এক ধারায় পাঁচ বছর এবং অন্যটিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দিলেও উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হয়ে সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। ৩৬৫ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উভয় সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে হবে তাদের। ফলে সাজা সাত বছর বলে গণ্য হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পেয়ে পর দিন ভোর রাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনরা সড়কে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাচৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল।

সাজাপ্রাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী‌কে কুপিয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন জেল

মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাস নিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে ফেরার পথে চৌকির সেনাসদস্যরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করলে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালালেও বাকি ছয়জনকে আটক করেন সেনাসদস্যরা।

অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম আরও বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদী হয়ে ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজমকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com