দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশন।ছবি : সংগৃহীত

১১০০ কোটি টাকা তছরুপ : বিমানের ৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

মিশরীয় দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সময় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিডেটের চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওই চার কর্মকর্তা হলেন—প্রিন্সিপাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি) সাইফুল হক শাহ, এয়ার অর্থনেস কনসালট্যান্ট (সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি) গোলাম সারওয়ার, বিএফসিসি ম্যানেজার সাদেকুল ইসলাম ভূইয়া ও কামাল উদ্দিন আহমেদ।

দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিকে, একই অভিযোগে সোমবার আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন—প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স) এস এম সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার এস এম হানিফ ও এমসিসি প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার দেবেশ চৌধুরী। তবে, সোমবার ফ্লাইট অপারেশন পরিচালক ও পরিদর্শক দলের টিম লিডার ইশরাত আহমেদ দুদকে হাজির হননি।

দুদকের টেবিলে থাকা এ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট (মিশর) এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর নামের দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড। ইঞ্জিনগুলো প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছরের পুরোনো হওয়ায় উড্ডয়ন যোগ্যতার মেয়াদকাল কম থাকায় লিজ আনার পর এক বছর না যেতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে উড়োজাহাজ সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় নেওয়া হয়। এর দেড় বছর পর এটিও নষ্ট হয়ে যায়। তখন ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু, কোনো সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী কোম্পানি উভয়কেই অর্থ দিতে হয়েছে বিমানকে। এভাবে ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী কোম্পানির পেছনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের খরচ হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতি মাসে বিমান ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। এভাবে পাঁচ বছরে দেশের ক্ষতি হয় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

এ অর্থ তছরুপের বিষয়টি একাদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে ওঠে আসে। এরপরই এ ঘটনা অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে সুপারিশ পাঠায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। দুদক ওই সুপারিশ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়।

জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানী টিম অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামালের দপ্তরে চিঠি পাঠান। দুদকের পাঠানো চিঠিতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার দরপত্রসহ ১৩ ধরনের নথিপত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠি পেয়ে নথিপত্র পাঠানো হয় দুদকে। এরপর অভিযোগের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়।

Related Stories

No stories found.
kalbela.com