স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস, গোপনে অন্য নারীকে বিয়ে করায় কুপিয়ে হত্যা

আশুলিয়ায় অটোরিকশাচালক আলী নূর বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আহিনা খাতুন।
আশুলিয়ায় অটোরিকশাচালক আলী নূর বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আহিনা খাতুন। কালবেলা

সাভারের আশুলিয়ায় গত ৩০ জুলাই অটোরিকশাচালক আলী নূর বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব জানিয়েছে, হত্যাকারী আহিনা খাতুন ও আলী নূর বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কিছুদিন আগে গ্রামে গিয়ে গোপনে অন্য নারীকে বিয়ে করেন আলী নূর। এর জেরেই তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান আহিনা।

র‌্যাব-৪ এর একটি দল গতকাল মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আহিনা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব জানায়, আলী নূর বিশ্বাস মাগুড়ার শ্রীপুর থানার হোগলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাকরির সন্ধানে ২০১৪ সালে ঢাকায় আসেন। এরপর প্রথমে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। তবে কিছুদিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছিলেন। বছর তিনেক আগে আহিনার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে দুজন একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ে না করেই তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আশুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। তাদের পরিবার এসব জানতো না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই মাসের শুরুতে আলী নূর কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। তার গোপন বিয়ের ব্যাপারটি জেনে যান আহিনা। এরপর তিনি আলী নূরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

বিয়ের পর আলী নূর ১৭ জুলাই ঢাকায় ফেরেন। এরপর ২৯ জুলাই আশুলিয়ার জিরাবো নামাপাড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন। ৩০ জুলাই রাতের খাবার শেষে দুজনই ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু আহিনা ঘুমের ভান করে থাকলেও তিনি জেগে ছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক আহিনা ভোররাতে আলী নূরকে ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে মাথা, গলা এবং বুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে লাশ কাঁথাচাপা দিয়ে রাখেন।

র‌্যাব জানায়, হত্যার পর থালা-বাসন, কাপড় একটি বস্তায় ভরে ভোর ৬টায় ঘরে তালা দিয়ে বস্তা নিয়ে হেঁটে প্রথমে জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন আহিনা। সেখান থেকে বাসে করে আবদুল্লাহপুর, পরে আবার বাস উঠে কুড়িল বিশ্বরোডে যান। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় চাকরিপ্রত্যাশী পরিচয় দিয়ে একটি টিনশেড বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। ৩১ জুলাই বিকেলে আলী নূরের মোবাইল থেকে তার ভগ্নিপতিকে বিষয়টি জানান। পরে তার পরিবারের লোকজন গিয়ে আলী নূরের লাশ পান।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় আলী নূরের বড় ভাই বাদী হয়ে আহিনাকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আহিনা নীলফামারীর একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। ২০১২ সালে তার প্রথম বিয়ে হলেও পারিবারিক কলহের জেরে দেড় বছর পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তার সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ২০১৮ সালে ঢাকায় আসেন এবং আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com