গুম তালিকায় ভারতের ২ বিচ্ছিন্নতাবাদীর নাম

ইউএনএলএফরি নেতা সানায়াইমা রাজকুমার ওরফে মেঘেন।
ইউএনএলএফরি নেতা সানায়াইমা রাজকুমার ওরফে মেঘেন।ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের শিকার হওয়া ৭৬ জনের যে তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছে, সেখানে দুজন ভারতীয় নাগরিকের নাম আছে। দুজনই ভারতের মনিপুর রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী, নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (ইউএনএলএফ) শীর্ষ নেতা।

একজন সংগঠনটির চেয়ারম্যান, অপরজন মেজর পদমর্যাদার। তারা হলেন— সানায়াইমা রাজকুমার ওরফে মেঘেন ও কেইথেল্লাকপাম নবচন্দ্র ওরফে শিলহেইবা।

জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের গুমের তালিকায় ভারতের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদীর নাম থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে, তালিকাটি যাদের কাছ থেকে তারা পেয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক। এখন জাতিসংঘের উচিত হবে নতুন তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করে তা প্রকাশ করা।
শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক আইজি

সানায়াইমা রাজকুমার দীর্ঘ কারাভোগের পর কারামুক্ত হয়ে মনিপুর রাজ্যেই বসবাস করছেন। অপরজন কেইথেল্লাকপাম নবচন্দ্র ভারত সরকারের হেফাজতে আছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও একাধিক সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হক বলেন, জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের গুমের তালিকায় ভারতের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদীর নাম থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে, তালিকাটি যাদের কাছ থেকে তারা পেয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক। এখন জাতিসংঘের উচিত হবে নতুন তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করে তা প্রকাশ করা।

তিনি বলেন, গুমের তালিকা নিয়ে রাজনীতির বিষয়টি স্পষ্ট। এটা ওই গোষ্ঠীর কাজ, যারা অতীতেও খুন-গুমের কাল্পনিক তালিকা বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে সরকারের সম্মানহানির চেষ্টা করেছে।

ইউএনএলএফরি নেতা সানায়াইমা রাজকুমার ওরফে মেঘেন।
দেশবিরোধীদের দেয়া গুম-খুনের বক্তব্য সঠিক নয়: তথ্যমন্ত্রী

কেইথেল্লাকপাম নবচন্দ্রের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গ্রেপ্তার হন কেইথেল্লাকপাম নবচন্দ্র। একই বছরের মার্চে তাকে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। নবচন্দ্র রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি। তার বিচার চলছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের শিকার হওয়া ৭৬ জনের একটি তালিকা গত বছর বাংলাদেশ সরকারকে দেয়। এ বিষয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা হয়।

ইউএনএলএফরি নেতা সানায়াইমা রাজকুমার ওরফে মেঘেন।
তিন দিন গুম করে রাখার পর অস্ত্রসহ আদালতে তোলা হয় সোহেলকে : ছাত্রদল

২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম ইউএনএলএফের শীর্ষ দুই নেতাকে নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। ভারতের দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ডেকান হেরাল্ডসহ মূলধারার গণমাধ্যম রাজকুমার মেঘেন ও কেইথেল্লাকপাম নবচন্দ্রের গ্রেপ্তার বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্য জানায়।

প্রতিবেদনে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএর বরাত দিয়ে বলা হয়, বিহার রাজ্যসংলঘ্ন নেপাল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন রাজকুমার মেঘেন। এরপর রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপের অভিযোগে করা মামলায় ২০১৬ সালে জুনে মেঘেনের ১০ বছর সাজা হয়। তবে কারাগারে ভালো আচরণ করায় সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর মুক্তি পান তিনি।

এদিকে মেঘেনের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানায়, ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার হন মেঘেন। পরে তাকে এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

গত ১৪ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত ঢাকা সফরের সময় এ তালিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ব্যাশেলেতকে জানানো হয়, ওয়ার্কিং গ্রুড ৭৬ জনের যে তালিকা দিয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জনের খোঁজ মিলেছে। বাকিদের মধ্যে ১০ জনকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করতে চাইলেও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে সাড়া মেলেনি। বাকি ৫৬ জন পলাতক বা নিখোঁজ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com