প্রতিবেদন দাখিলে দুদক সময় পেল তিন মাস

দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশন।পুরোনো ছবি

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর অংশের সরকারি জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার ঘটনা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে দুদককে তিন মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘মহাসড়ক বন্ধক দেখিয়ে লুটপাট ১৫ কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়েদ আহমেদ রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে আদেশ দেন। আদেশে দুদককে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

দুদকের আইনজীবী শাহীন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দুদকের পক্ষে অনুসন্ধানের একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে সময় চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিন মাসের সময় দিয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাসড়কের সরকারি জমি বন্ধক রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মো. গোলাম ফারুক নামে এক ভয়ংকর প্রতারক। ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি বাগিয়ে নেন মোটা অঙ্কের এ ঋণ। তবে সেটি ধরা পড়ার পর আবার সংশোধন করেন দলিল। এবার আগের বন্ধককৃত জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে ব্যাংকে জমা দেন। সংশোধিত দলিলের জমিতে বন্ধকী সম্পত্তির সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে ব্যাংক জানতে পারে সেটিও ভুয়া। সংশোধিত দলিলের জমির আসল মালিক জামির আলী। ২৭ শতাংশ ওই জমি দখলে নিতে একাধিকবার তার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা চলে। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ফারুকসহ তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফিরোজ আল মামুন ওরফে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

জানা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মহাসড়কের জমি ব্যক্তির নামে নিবন্ধন, বিক্রয়, ব্যাংকে বন্ধক ও ব্যাংক কর্তৃক নিলামে বিক্রি চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। ওই ঘটনায় ভূমি মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে একটি প্রতারক চক্র মহাসড়ক শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমি কয়েকটি সরকারি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে ব্যক্তি মালিকানায় নিবন্ধন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। যদিও এসব জমি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক অধিগ্রহণ করা।

১৯৪৮ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর অংশের অধিগ্রহণ হওয়ার আগের জমির মালিকের ছেলেকে খুঁজে বের করেন। জালিয়াতির সাহায্যে তিনি ২০০৬ সালে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করেন। পরে ওই দলিল মূলে তৎকালীন মালিকের ছেলের কাছ থেকে ফারুক তার স্ত্রীর নামে ২০১০ সালে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ক্রয় করে আরেকটি দলিল তৈরি করেন। একই বছরে তার স্ত্রী থেকে ওই জমি নিজের নামে দলিল করে নেন। মহাসড়কের জমিকে নিজের দেখিয়ে বেসরকারি ব্যাংকে বন্ধক দেখান। ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে নিয়ে নেন ১৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৩ সালে ব্যাংক অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বন্ধকী জমি নিলামে বিক্রয় করার নোটিশ জারি করলে ব্যাংক সরেজমিন গিয়ে দেখতে পায়, ওই জমিটি সরকারি সম্পত্তি।

পরে তিনি ভুল সংশোধন দলিল করে আগের বন্ধককৃত জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে মামলার বাদীর ও ভুক্তভোগী জামির আলীর জমির দাগ নম্বর উল্লেখ করেন। তখন ব্যাংক সেই জমিতে বন্ধকী সম্পত্তির সাইনবোর্ড স্থাপন করতে গিয়ে জানা যায়, সেটিও ভুয়া।

রিটের পর আইনজীবী তামজীদ হাসান বলেন, মহাসড়কের জায়গা বন্ধক দিয়ে ঋণ নিয়েছেন। একটি বেসরকারি টিভিতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি গোলাম ফারুক একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু মহাসড়কের জমি বন্ধকের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ওই ঘটনার তদন্ত চেয়ে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com