ভ্রমণের টাকার জন্য নাতনির প্ল্যানে ডাকাতি মারধরে নিহত নানা

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ঘুরতে যাওয়ার টাকা জোগাড়ে ডাকাতির ছক কষেন আনিকা তাবাসসুম। সঙ্গে নেন ভাই ও তার ছেলেবন্ধুসহ কয়েকজনকে। এরপর অপেক্ষা করছিলেন মোক্ষম সময়ের। অবাক করার মতো বিষয় হলো— যে ঘর ডাকাতি করতে আনিকার এত আয়োজন, সেটি তারই নানার বাড়ি। সময় এলো। ডাকাতির ঘটনাও ঘটল। কিন্তু মালপত্র লুটে বাধা দেওয়ায় প্রাণ হারালেন নানা মুনসুর আহমেদ। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের পর ডাকাতি ও হত্যার বীভৎস তথ্য বের হয়ে আসে। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে যুগ্মপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন মুনসুর আহমেদের বড় মেয়ের দুই সন্তান আনিকা তাবাসসুম (২৩) ও শাহাদাত মুবিন আলভী (২০), আনিকার বন্ধু রাজু (২২), তার ছোট ভাই রায়হান (২০) ও বন্ধু সাঈদ (২০)।

প্রতীকী ছবি
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রের ‘আত্মহত্যা’

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জানান, গত ১৭ নভেম্বর রাতে চকবাজারের খাজে দেওয়ান প্রথম লেনে নিজ বাড়িতে খুন হন একটি মসজিদ কমিটির সভাপতি মুনসুর আহমেদ। এ ঘটনায় ডাকাতিসহ খুনের মামলা করেন তার বড় ছেলে। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি সিরিঞ্জকে কেন্দ্র করে তদন্ত করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। ডাকাতির পরিকল্পনায় জড়িত ভিকটিমের নাতি-নাতনি। ন্যাশনাল ডেন্টালে পড়ুয়া নাতনি আনিকা মূল পরিকল্পনাকারী। তার ভাই, তার ছেলেবন্ধু ও অন্যরা পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতি করতে গিয়েছিল। বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ঘুরতে যাওয়ার টাকা জোগাড়ে এক মাস আগে হয় এ ডাকাতির পরিকল্পনা। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগ খুঁজছিল তারা। ওই রাতে পরিবারের সদস্যরা চান কমিউনিটি সেন্টারে বিয়েতে অংশ নিতে যায়। আনিকাও সেখানে যায়। সেখান থেকে ডাকাতির তদারকি করেন তিনি। আর বাড়ির আশপাশে থেকে নজরদারি করছিল আনিকার ছেলেবন্ধু। ডাকাতি করতে বাসায় যায় আলভী, রায়হান ও সাঈদ। তারা ভুক্তভোগীকে ইনজেকশন পুশ করার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে রায়হান আর সাঈদ মুনসুর আহমেদকে মারধর করেন। এ সময় আলভী ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাসা থেকে লুট হয়েছে ৯২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে আনিকার বাসা থেকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি করা। ঘটনাক্রমে হত্যার শিকার হন মুনসুর আহমেদ।

মুনসুর আহমেদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা ও তার স্বামী পেশায় চিকিৎসক। এ ঘটনায় আনিকা ও আলভী জড়িত থাকার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারলেও প্রথমে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জড়িতদের ডিজিটাল ফরেনসিক, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com