বাহাদুর শাহ পার্ক রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এলাকাবাসীরা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এলাকাবাসীরা।ছবি : কালবেলা

পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি দালানকোঠার মাঝে লক্ষ্মীবাজারের পশ্চিম প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরশাহ পার্ক যেন এক টুকরা সবুজ স্বর্গ। ১৮৫৭ সালের ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের রক্তে রঞ্জিত এক ঐতিহাসিক স্থান এটি। স্থানীয়দের বিনোদন, শরীরচর্চা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একমাত্র স্থান পার্কটি।

তবে সম্প্রতি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ফলে এখানকার ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) আবেদন করা হলেও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এই পার্ক রক্ষায় আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব আখতারুজ্জামান খান। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে পার্কের অভ্যন্তরে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়। গত ১০ নভেম্বর সংগ্রাম পরিষদ ও বিশিষ্ট ১৬ জন নাগরিক মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে দেখা করে পার্কে বাণিজ্য স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, আগের মতো গোলাকার বেষ্টনী নির্মাণ এবং ১৮৫৭ সালের বীর শহীদদের স্মরণে লেখাটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।

আখতারুজ্জামান খান বলেন, ওই সময় বাহাদুর শাহ পার্কে চুলা জ্বলবে না এবং স্থাপিত রেস্তোরাঁর কাজ বন্ধ করে পার্কের পরিত্যক্ত জায়গায় রেস্তোরাঁটি স্থানান্তর করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র। কিন্তু ইতিমধ্যে ইজারাদার ঘোষিত মেয়রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পার্কের অভ্যন্তরে রেস্তোরাঁ চালু করে শহিদ বেদির সামনে চুলা জ্বালিয়ে রান্না করে পরিবেশের ক্ষতি করছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে অযৌক্তিক, অবিবেচনা প্রসূত, অপরিণামদর্শী ও ঐতিহ্য ধ্বংসকারী সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে রেস্তোরাঁ চালু করার সুযোগ দিয়েছেন।’

এ সময় দাবি বাস্তবায়নে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবি ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে ৯ দিনের মতবিনিময় সভাসহ ২৪ মে পর্যন্ত ১২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন তিনি।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এখানে আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমরা চাই পার্কের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা হোক, আগের মতো শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু হোক এবং পার্কটি রক্ষা পাক।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস ছাত্তার, হাজী মো. মুজাহিদ, মিরুজ্জামান খান মিরু ও সদস্য শাহ আলম ভূঁইয়া কাজী খসরুসহ অন্যরা।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com