সাংবাদিকদের পকেট মারাই ছিল মূল উদ্দেশ্য

চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা।
চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা।ছবি: সংগৃহীত

কমলাপুর রেলস্টেশনে ম্যানেজারের ফোন চুরির আলোচিত ঘটনায় আজিজ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিসহ চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার (১৮ মে) তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবির গুলশান বিভাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে চুরির কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত আজিজ।

তিনি বলেন, ‘আমি মূলত ঢুকেছিলাম সাংবাদিকদের পকেট মারার জন্যই। ম্যানেজারের মোবাইলটা আমার পরিকল্পনাতেই ছিল না। ম্যানেজার তার দুইটা মোবাইল বের করে সামনে টেবিলের ওপরে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন দেখে তখনই চুরির সুযোগ পেয়ে যাই।’

জানা গেছে, আজিজের পরিবার সৌদিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার। তার বাবা মক্কার একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের ইমাম ও খতিব। পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে গিয়ে খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আজিজ। শুরু করেন গাড়ি চুরি। সৌদিতে বিএমডাব্লিউ, মার্সিডিজসহ অন্তত আটটি দামি গাড়ি চুরি করেছেন তিনি। পরে জেল খেটে পরিবারচ্যুত হয়ে দেশে ফিরেন। দেশে ফিরে কক্সবাজারের একটি মাদ্রাসায় ভালো চাকরি করতেন। সেটা করতে করতেই ইয়াবায় আসক্ত হন। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই জড়িয়ে পড়েন চোর চক্রের সঙ্গে। মানুষের ফোন, মানিব্যাগ চুরি করে তা নামমাত্র দামে বিক্রি করে দিতেন। এছাড়া তার দুই সহযোগী রনি ও জাকির হোসেন কমদামে চোরাই ফোন কিনে পার্টস আলাদা করে বাইরে বিক্রি করত।

ডিএমপি ডিবি’র উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘তার মতো একজন দ্বীনদার মানুষ, সে মাদকাসক্তির কারণে রাস্তায় পকেট মারবে, এটা আমাদের কাছে খুবই আনকমন মনে হয়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।’

এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল বেলা ১২টায় ঈদের আগাম টিকেট ইস্যুতে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে ব্রিফ করছিলেন স্টেশন ম্যানেজার। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ম্যানেজারের দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগসহ নগদ ৪৫ হাজার টাকা চুরি হয়ে যায়। চুরি ও ফোন জব্দের ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ে থানা ও রাজধানীর বংশাল থানায় দুটি মামলাও হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com