মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোটি টাকা লুট

গ্রেপ্তার মো. খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদ।
গ্রেপ্তার মো. খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদ।কালবেলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার বাসিন্দা ৩০ বছরের মো. খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদ। আর্থিক লেনদেনের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বিকাশ ও নগদের অফিসের কর্মকর্তার পরিচয়ে সাধারণ মানুষের ক্রেডিট কার্ড থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় খোকন ব্যাপারীর চক্র।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় রোববার (৩১ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডির হেডকোয়ার্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

এখন পর্যন্ত খোকন তার অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে প্রায় এক কোটিরও বেশি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। দলনেতা হিসেবে বেশিরভাগ সুবিধা নিতেন খোকন। তারা দুটি ফেসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে তাদের তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। পরে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝে নম্বর সংগ্রহ করে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে।
সিআইডি

মুক্তা ধর জানান, ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতারক চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে মো. খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার আসামির নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র নিজেদের বিকাশ, নগদ ও রকেটের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রায় ৫ বছর ধরে প্রতারণা করছিলেন।

যেভাবে প্রতারণা

প্রতারণার ধরন সম্পর্কে সিআইডি জানায়, প্রথম ধাপে প্রতারক চক্র বিকাশ কর্মকর্তা হিসেবে ভুক্তভোগীকে ফোন দিয়ে ‘অ্যাকাউন্ট’ আপডেটের জন্য বলেন৷ আর তার অ্যাকাউন্টটি আপডেট না করলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে ভয় দেখানো হয়।

দ্বিতীয় ধাপে তারা ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত বিকাশ অ্যাকাউন্টে ভুল পাসওয়ার্ড তিন বারের বেশি দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সাসপেন্ড’ হয়ে যায় বলে জানায়।

এরপর প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীকে জানায়, তার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা ব্লক হয়েছে। এই ব্লক করা টাকা ভিসা কার্ড ও মাস্টার কার্ডে ট্রান্সফার করা সম্ভব।

পরে ভুক্তভোগী তাদের কথায় বিশ্বাস করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্ডে টাকা আনার জন্য রাজি হলে, গোপন কোড জেনে নিয়ে ভুক্তভোগীর কার্ডের টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে নিয়ে নেয় ওই চক্র।

সিআইডি জানায়, এখন পর্যন্ত খোকন তার অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে প্রায় এক কোটিরও বেশি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।

দলনেতা হিসেবে বেশিরভাগ সুবিধা নিতেন খোকন। তারা দুটি ফেসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতেন।

পরে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝে নম্বর সংগ্রহ করে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। এভাবেই শত শত মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি।

প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগীর করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর ডেমরা থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com