বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

বিশ্বজিৎকে হত্যার পরে ভারতে পালিয়ে ছিল কামরুল
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. কামরুল হাসান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. কামরুল হাসান।ছবি: কালবেলা

চাঞ্চল্যকর বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. কামরুল হাসানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রোববার (১৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৩ এর পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় কামরুল আত্মগোপন করে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর অভিযানে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, ঘটনার দিন বিশ্বজিৎকে প্রতিপক্ষ দলের সদস্য ভেবে তাকে তারা ধাওয়া করে। তারপর মামলার আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। বিশ্বজিৎ আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারপর সে জানতে পারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বিশ্বজিৎ এর মৃত্যু হয়েছে এবং এই ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় মামলা হয়েছে। এরপর পার্শ্ববর্তী দেশে তার নানার বাড়ির এক আত্মীয়ের আশ্রয়ে সে আত্মগোপন করে। মামলার অভিযোগ পত্র দাখিলের দুইমাস পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

র‍্যাব আরও জানায়, ১৯৯৪ সালে তার পিতার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কামরুল সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করত। তার পিতার মৃত্যুর পর তারা গ্রামের বাড়ি চলে যায়। তারা তিন বোন এক ভাই। ভাইবোনদের মধ্যে কামরুল সবচেয়ে কনিষ্ঠ। সে নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি স্কুল হতে বিজ্ঞান বিভাগ হতে এসএসসি এবং একটি কলেজ হতে এইচএসসি পাস করে। ২০০৫ সালে তিনি ঢাকার একটি কলেজে একাউন্টিং বিভাগে স্নাতকের জন্য ভর্তি হয়। সে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সাথে যুক্ত ছিল। ২০১১ সালে তার সহপাঠীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

২০১৩ সালের শেষ দিকে তিনি বাংলাদেশে ফিরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় তার স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। এ সময় সে জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে। প্রথমে সে ছদ্মনামে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে। এরপর প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের মূলহোতা খোকন ও সোহেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে প্রশ্ন বিক্রি করে ৫০ লাখেরও বেশি টাকা উপার্জন করে।

অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়ে সে কক্সবাজারের সদর এলাকায় হোটেল ব্যবসা চালু করে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময় লোকসানের কারণে সেই ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে তার দৃশ্যমান কোনো পেশা নেই।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com