‘কুশ’ মাদক নিয়ে করতেন গবেষণা, ধরা র‌্যাবের হাতে

সাঈদকে সোমবার রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
সাঈদকে সোমবার রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।কালবেলা

অপ্রচলিত ও নতুন মাদক বিক্রি এবং তাপ নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কুশ মাদক তৈরির অন্যতম মূলহোতা ওনাইসি সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদকে রাজধানীর গুলশান থেকে আটক করেছে র‌্যাব।

সেই সঙ্গে ‘এক্সট্যাসি’ নামের নতুন মাদকের সন্ধ্যান পেয়েছে র‌্যাব। এক্সট্যাসি হলো মেথানিল ডাই অক্সি মেথাফিটামিন।

কারওয়ান বাজারের মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

দেশে নতুন মাদক এক্সট্যাসির অন্যতম মূলহোতা সাঈদ। তিনি প্রায় ৪ বছর ধরে এক্সট্যাসিসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত। দেশে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এই মাদক তিনি পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করতেন।
র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন

র‍্যাব কমান্ডার জানান, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মাদক এক্সট্যাসি, কুশ, হেম্প এবং মলি, এডারল, ফেন্টানিলসহ অন্যান্য মাদক জব্দ ও প্রায় ৩ কোটি টাকার দেশি ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সোমবার (১ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল রাজধানীর গুলশান থেকে সাঈদকে গ্রেপ্তার করে।

আটকের সময় জব্দ করা হয় ১০১ গ্রাম কুশ, ৬ গ্রাম হেম্প, ০.০৫ গ্রাম মলি, এক গ্রাম ফেন্টানল, ১৮ গ্রাম কোকেন, ১২৩ পিচ এক্সট্যাসি, ২৮ পিচ এডারল বড়ি ও ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও অর্ধলক্ষাধিক মার্কিন ডলার।

যেভাবে মাদক কারবারে

খন্দকার আল মঈন জানান, আটক সাঈদ বাংলাদেশে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজ থেকে পড়াশুনা শেষে বিদেশ থেকে বিবিএ এবং এমবিএ করেন। বিদেশে অধ্যায়ন শেষে ২০১৪ সাল থেকে দেশে অবস্থান করেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে অবস্থান করা পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি সাঈতকে বিভিন্ন অপ্রচলিত মাদক সরবরাহ করতেন। সেই সরবরাহকারী উত্তর আমেরিকার একটি দেশে চলে যান। সেখান থেকে এ জাতীয় মাদক সাপ্লাই করতে থাকেন। এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হন।

আটক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে খন্দকার আল মঈন জানান, দেশে নতুন মাদক এক্সট্যাসির অন্যতম মূলহোতা সাঈদ। তিনি প্রায় ৪ বছর ধরে এক্সট্যাসিসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত। দেশে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এই মাদক তিনি পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, মাঝেমধ্যে তিনি নিজেও বিদেশে গিয়ে মাদক লাগেজে বহন করে দেশে নিয়ে আসতেন। হুন্ডির মাধ্যমে মাদকের অর্থ পরিশোধ করতেন।

এই মাদকের প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টির ফলে তিনি এ নিয়ে অধ্যায়ন এবং গবেষণা শুরু করেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নত দেশে মাদক সরবরাহের জন্য তিনি কুশ প্ল্যান্টের ফার্ম তৈরি করেছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com