‘আমি তুফান, চুরি করেই যাব’

অদ্ভুত তাদের পেশা, কাগজপত্র চুরি করে হাতিয়ে নেয় টাকা
গ্রেপ্তারকৃত তুুফান গ্রুপের ৪ সদস্য।
গ্রেপ্তারকৃত তুুফান গ্রুপের ৪ সদস্য।ছবি: কালবেলা

রাজধানীতে বাসের কাগজ চুরি করে টাকা আদায়কারী চোর চক্রের মূল হোতা রাকিব মিয়া ওরফে তুফান (২৭) সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (১৬ জুলাই) রাতে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বাকিরা হলেন- মো. শুকুর আলী (২৮), মো. হৃদয় হোসেন (২১) এবং মো. শামিম (২৫)।

সিআইডি জানায়, ২০২০ সাল থেকে রাজধানীতে চলাচলরত মিরপুর লিংক, শিকড় পরিবহন, খাজাবাবা পরিবহন, প্রজাপতি পরিবহন এবং রবরব পরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহনের বাসে অদ্ভুত কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বাস বা বাসের কোনো যন্ত্রাংশ চুরি না করে বাসের ব্লু-বুক ও রেজিষ্ট্রেশন সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র চুরি করতেন। যাত্রীবেশে উঠে এবং অভিনব কায়দায় বাসের কাগজপত্র চুরি করার পরে তারা গাড়ির মালিক, ম্যানেজার ও ড্রাইভারদের নম্বর সংগ্রহ করে চোরাইকৃত প্রতিটি গাড়ির কাগজের জন্য টাকা দাবি করতেন।

বাসের মালিকরা শুরুতে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেও কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় বাস চালাতে না পারায় বাস মালিকরা টাকা দিতে বাধ্য হতেন। পরে চক্রের দেওয়া নাম্বারে প্রতি গাড়ির কাগজের জন্য ৫-৭ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতেন।

সিআইডি আরও জানায়, এই চক্রটি টাকা পেয়ে কিছু গাড়ির কাগজপত্র ফেরৎ দেয় এবং কিছু কাগজপত্র আটকে রাখে। আটকে রাখা গাড়ির কাগজপত্র ফেরৎ দেওয়ার শর্তে মিরপুর লিংক, খাজাবাবা ও বিকল্প পরিবহন বাসের মালিকদেরকে মাসিক চাঁদা দিতে বাধ্য করে। অন্যান্য মালিকরা মাসিক চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় চক্রের মূল হোতা তুফান নাম পরিচয় দিয়ে মালিকদেরকে হুমকি দিতো।

চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া রেজিস্ট্রেশন সনদ।
চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া রেজিস্ট্রেশন সনদ।ছবি: কালবেলা

মোবাইলে তুফান হুমকি দিয়ে বলতেন, ‘আমি তুফান, আমাকে ঢাকা শহরের অধিকাংশ পরিবহনের মালিকেরা মাসিক চাঁদা দেয়, কোনো পরিবহনের মালিক মাসিক চাঁদা না দিলে আমি ওই সমস্ত গাড়ির কাগজ চুরি করেই যাব, ঢাকা শহরের কোনো পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।’

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমরান হোসেন বলেন, এই চোর চক্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গাড়ীর মালিকরা ঢাকার বিভিন্ন থানায় বিষয়টি অবহিত করে সাধারণ ডায়েরী করেন। কিন্তু এতেও কোনো ফল না পাওয়ায় বাস মালিকরা বিষয়টি সিআইডি পুলিশকে জানায়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় তাদের কাছ থেকে অনেকগুলো বাসের চোরাই রেজিস্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করার জন্য ঢাকা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে মোবাইল চুরি করে। এরপর সেই মোবাইল দিয়ে ফোন করে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com