বেশি দামে গম আমদানি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় : টিআইবি

বেশি দামে গম আমদানি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় : টিআইবি

বেশি দামে গম আমদানি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বিবৃতির বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় দাবি করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে টিআইবি।

টিআইবি জানায়, খাদ্য মন্ত্রণালয় যৌক্তিক দামে গম কেনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যেভাবে টিআইবির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে, তা সত্যিই হতাশার। একইসাথে, ব্যাখ্যায় গণমাধ্যম ও টিআইবির বিবৃতিতে তোলা অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

গম ক্রয়ে তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ নিয়ে টিআইবি আপত্তি তুললে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তারা রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় এজেন্ট। টিআইবি বলে, জিটুজি কার্যক্রমে সরকার নির্ধারিত কমিটির সদস্যরা সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন, এখানে তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি’ রাশিয়ার গম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রডিনটর্গের লোকাল এজেন্ট। যাদের গম আমদানিতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করার কথা, কিন্তু দাম নির্ধারণ বা এ বিষয়ক সমঝোতায় তাদের ভূমিকা থাকার কথা নয়।

টিআইবি জানায়, খাদ্যসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী আলোচিত প্রতিষ্ঠানটির দুজন প্রতিনিধি গমের দাম নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সমঝোতায় সহায়তা করেছেন।

বেশি দামে গম আমদানি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় : টিআইবি
রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য রপ্তানি চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গমের দাম নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গম সংগ্রহ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশের গম আমদানির অন্যতম উৎস ভারত সরকারি ও বেসরকারি গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় গম আমদানি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সরকার অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে জিটুজি প্রক্রিয়ায় গম সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে গমের দাম ৫০০ ডলারের বেশি হওয়ায়, সরকার সেখান থেকে গম ক্রয়ে আগ্রহী হয়নি।

সরকারের এমন যুক্তির বিপরীতে টিআইবি জানায়, ১ আগস্ট থেকে ইউক্রেন গম রপ্তানি শুরু করার পর বিশ্ববাজারে গমের দর বড় আকারে পড়তে শুরু করে। দর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার ট্রেন্ড কতটা বিবেচনায় ছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। রাশিয়ার গমের এফওবি মূল্য ৩৩০ মার্কিন ডলার ধরে এর সাথে জাহাজ ভাড়া, লোডিং-আনলোডিং, বার্থঅপারেটর হ্যান্ডলিং, ইন্স্যুরেন্স ও লাইটেনিংসহ সর্বমোট মূল্য ৪৩০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ হয়, যাকে যুক্তিসংগত ও সঠিক বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় দাবি করছে। কিন্তু প্রতিটনে ১শ ডলার ল্যান্ডিং খরচের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, সেখানেই মূলত শুভংকরী ফাঁকি। একইসাথে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার গমের দামের যে তুলনা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় দেওয়া হয়েছে, তাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়েছে। কেননা সারা বিশ্বে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসা ব্ল্যাক-সি-হুইট মূলত কম দামি গম হিসেবেই খ্যাত। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার দরও যার সাক্ষী দিচ্ছে।

গমের দাম যাচাই নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার গমের এফওবি মূল্য ছিল ৩৩৪ ডলার ২৫ সেন্ট। জিটুজির পূর্ববর্তী দুটি আন্তর্জাতিক দরপত্রে গমের ক্রয়মূল্য ছিল যথাক্রমে ৪৭৬ ডলার ৩৮ সেন্ট এবং ৪৪৮ ডলার ৩৩ সেন্ট।

টিআইবি জানায়, শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডের তথ্য বলছে, ব্ল্যাক-সি-হুইট ৩১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। একই সঙ্গে, সিএমই গ্রুপের তথ্য বলছে, এই গমের ভবিষ্যৎ চুক্তি, যেটি ২০২৩ সালে (জুন থেকে আগস্ট সময়কালে) সরবরাহ করা হবে, তার দাম ২৯৬ ডলারে সম্পন্ন হয়েছে। তাই মন্ত্রণালয়ের গমের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে দেওয়া যুক্তি ধোপে টিকে না। পাশাপাশি জিটুজিতে কোনো পণ্য ক্রয় করার পূর্বে বাজার যাচাইয়ের বিষয়টি সম্পন্ন না করে, কীভাবে দর ঠিক হলো, তার ব্যাখ্যাও দেয়নি মন্ত্রণালয়। খাদ্যপণ্যের কেনাকাটায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরবরাহকারী সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা জরুরি হলেও, খাদ্য মন্ত্রণালয় যে তা রাখে না, তার বড় প্রমাণ বাড়তি দাম বিবেচনায় প্রডিনটর্গের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের চুক্তি বাতিলের বিষয়ে তথ্য না থাকা।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com