দলিলাদি ছাড়া দখল করে জমির মালিকানা নেওয়া অবিচার : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।পুরোনো ছবি

যথাযথ দলিলাদি ছাড়া কেবল দখল করে জমির মালিকানা এ যুগে অবিচার বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ই-নামজারি ব্যবস্থার মতো সারা দেশে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাতেও শতভাগ ডিজিটাল অর্থাৎ এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিবিসি নিউজ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারটি গতকাল বুধবার গণমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করা হয়।

প্রসঙ্গত, নামজারি সিস্টেমে আবেদন, ফি প্রদান ও আবেদন মঞ্জুর শেষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি যেমন—ডিসিআর ও খতিয়ান সংগ্রহ প্রক্রিয়া সবকিছুই এখন ডিজিটাল। এ ছাড়া আগামী পয়লা অক্টোবর থেকে ই-নামজারি ব্যবস্থায় ম্যানুয়ালি/নগদ টাকায় কোনো ফি জমা নেওয়া হবে না।

অবৈধ ভূমি দখল সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দলিলাদি যার, জমি তার’ এ ভাবনা থেকেই ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর খসড়া তৈরির কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয় (দলিলাদি বলতে যথাযথ নিবন্ধন দলিল, খতিয়ানসহ আনুষঙ্গিক নথিপত্র)।

মন্ত্রী আরো বলেন, এ আইনের খসড়া পরীক্ষণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর আইন প্রণয়নের জন্য সংসদে পাঠানো হবে। কেউ যত বছরই জোর করে কোনো জমি দখল করে রাখুক না কেন, যথাযথ দলিলাদি ছাড়া বেআইনি দখলদারের মালিকানা এ আইনে কখনো স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। যথাযথ দলিলাদি ছাড়া কেবল দখল করে জমির মালিকানা এ যুগে অবিচার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইন প্রণয়নের পর জমি দখলসংক্রান্ত হয়রানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

জরিপ কার্যক্রম যথাবৎ না হওয়ার কারণে বেশিরভাগ মামলা-মোকদ্দমা হয় উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, এ জন্য বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ (বিডিএস) প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ড্রোনসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিডিএস পাইলট হিসেবে পটুয়াখালী ও বরগুনায় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু পরীক্ষামূলক ফলাফল হাতে এসেছে, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ নির্ভুল। পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করে সারা দেশে একযোগে শিগগিরই বিডিএস শুরু করা হবে। বিডিএস শেষ হলে মামলা-মোকদ্দমা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে ভূমিমন্ত্রী মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে একযোগে বিডিএস উদ্বোধন করবেন বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় জীবনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব ও এর কর্মপরিধির ব্যাপকতা বোঝাতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় অনেক বড় মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের মানচিত্র যত বড়, ভূমি মন্ত্রণালয় তত বড়। এখানে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

যেহেতু সারা দেশ থেকে ভূমি অফিস সম্পর্কে অভিযোগ আসে, সেহেতু মন্ত্রী হিসেবে সারা দেশে সারপ্রাইজ ভিজিট করা অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমি প্রশাসনে সিস্টেম উন্নয়ন করে গুণগত পরিবর্তন আনাই সর্বোত্তম।

‘আমি চিন্তা করলাম আরও গুণগত পরিবর্তন করতে হবে আমাদের। এখানে সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে এবং সিস্টেমকে যদি আমরা ডেভেলপ করে নিতে পারি, আমার কারও সঙ্গে কারও কথা বলার প্রয়োজন নেই। সিস্টেম সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষ সেবা পেতে থাকবে, যোগ করেন মন্ত্রী।

সরকারি ভূমি সেবা প্রদানকারী গণকর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে কষ্ট দেবেন না, আপনার আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করতে হবে, মানসিকতা বদলাতে হবে, আপনার কর্তব্য সচেতন হতে হবে এবং মানুষকে কীভাবে সেবা দেওয়া যায় সেটা আপনার চিন্তা-ভাবনায় থাকতে হবে।’

সাক্ষাৎকারে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয় ছাড়াও তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তি জীবন নিয়েও কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, বিবিসি নিউজ বাংলা হচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যমে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের আওতাভুক্ত বিদেশি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষায় সম্প্রচারিত বিবিসির একটি বিভাগ। বিবিসি বাংলা বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়াসহ গোটা বিশ্বের সংবাদ পরিবেশন করে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com