টেকসই বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করতে হবে : স্পিকার

ঢাকা সেনানিবাসের সেনা মালঞ্চে আয়োজিত সেমিনারে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অতিথিরা বক্তব্য দেন।
ঢাকা সেনানিবাসের সেনা মালঞ্চে আয়োজিত সেমিনারে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অতিথিরা বক্তব্য দেন। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিশ্বশান্তির অগ্রদূত। বৈশ্বিক শান্তির প্রতি ছিল তার অকুণ্ঠ সমর্থন। তাই, বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকা বৈশ্বিক শান্তির প্রতি বঙ্গবন্ধুর অবস্থান থেকেই অনুপ্রেরণা পায়। সমাজের সবাইকে টেকসই বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একযোগে কাজ করে যেতে হবে।’

আজ বুধবার রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের সেনা মালঞ্চে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘জনগণকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করে শান্তি, সাম্য, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জনগণের জন্য তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শান্তির ধারণা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের চারটি মূল নীতিতে এ ধারণাগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে এবং সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই সংবিধানের সফল প্রতিপালন সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বশান্তি রক্ষায় যেমন কূটনীতিকদের ভূমিকা রয়েছে, তেমনি সংসদ সদস্যরাও সংসদীয় কূটনীতির চর্চা করেন। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের মতো বিভিন্ন ফোরামে তারা জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গ বৈষম্য নিরসন, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় আলোচনার মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইন এবং নীতিগুলো তুলে ধরেন।’

ঢাকা সেনানিবাসের সেনা মালঞ্চে আয়োজিত সেমিনারে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অতিথিরা বক্তব্য দেন।
আমরা নারীর অগ্রগতি সহায়ক গণতন্ত্র চাই : স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

স্পিকার বলেন, ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত শান্তিরক্ষা কার্যক্রমগুলোতে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ শান্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।’

নতুন প্রজন্মের কাছে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সক্রিয় ও গৌরবময় ভূমিকা উপস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার নিমিত্তে এ সেমিনার আয়োজনের জন্য আয়োজকদের এবং প্রধান দুই বক্তাকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার। সেই সঙ্গে দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সেমিনারে প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে সরব অংশগ্রহণের জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।

সেমিনারে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা’ বিষয়ে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক ‘বিশ্বশান্তি সংরক্ষণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের ৫০ বছর’ সম্পর্কে বক্তব্য দেন। সেমিনারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আনোয়ার হোসেন মডারেটর হিসেবে এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম সহ-আয়োজক হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া সেমিনারে নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের সামরিক উপদেষ্টা ও ডিফেন্স অ্যাটাশে, বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, বিশিষ্ট শিক্ষা ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com