চীনাদের অত্যাচারের বর্ণনা দিলেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শ্রমিকরা

তেজগাঁও স্টেশনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শ্রমিকদের আন্দোলন।
তেজগাঁও স্টেশনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শ্রমিকদের আন্দোলন।ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে সহজ হবে ঢাকা শহরের দুই অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে ট্রাফিক ধারণক্ষমতা বাড়বে, কমবে যাত্রার সময়। সেই সঙ্গে কমবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।

এতসব আশার কথা সামনে এলেও আজ মঙ্গলবার সকালে বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁও স্টেশনে আন্দোলনে নেমেছিলেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শ্রমিকরা। তাদের দাবি—প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা চীনারা তাদের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করছেন।

আন্দোলনরত মো. মনির নামের এক শ্রমিক কালবেলাকে বলেন, ‘চীনারা আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করে, মনটা কয়—কী আর কই, দুঃখ প্রকাশের জায়গা পাই না। আমাদের দেশে আইসা, আমাদের দেশের ভাত খাইয়া, আমাদের দেশে থাইকা আমাদের অত্যাচার করে—এটা তো ঠিক না।’

মনির আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না, প্রতিবাদ করলে এখানে দালালের কোনো অভাব নাই। আমি প্রতিবাদ করলে আমার ছবি তুইলা কাটিং কইরা নিয়া নিব। একটা হেলমেট নিবার গেলে ৩০০ টাকা কাটিং করে। একটা ইউনিফর্ম নিবার গেলে ৩০০ টাকা কাটিং করে। জুতা নিবার গেলে ১ হাজার ২০০ টাকা কাটিং করে। চীনাদের ভাষা তো আমরা বুঝি না। চীনারাও তো আমাদের ভাষা বোঝে না।’

এ শ্রমিক আরও বলেন, ‘আমরা কাজ করতে গেলে কোনো সমস্যা হইলেই মারব একটা লাথি। হাতে যেটা পাইব হেলমেটে বাড়ি দিব, মাথায় বাড়ি দিব। ওরা কোথায় যে মারব, আমরা নিজেরাও জানি না। অফিসে আইসা শিট নিয়া মানি (টাকা) তো কাটিং করবই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাটিং করা তিন মাসের বেতন আর ঘুসের টাকা ফেরত দিতে হবে।’

আরেক শ্রমিক বলেন, ‘যত লোক নিতেছে! ৫০ হাজার ৬০ হাজার টাকা করে প্রতিটা ম্যানপাওয়ার লোক নিতেছে। দুই মাস, তিন মাস পর সেই লোকটাকে কাটিং করে দিতেছে। আমাদের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট থাকবে যে—ন্যূনতম এক বছরের আগে কোনো লোক কাটিং করতে পারবে না। আমাদের ডিউটি ৮ ঘণ্টা দিতে হবে। কোনো লোক কাটিং করলে তাকে তিন মাসের বেতন দিয়ে কাটিং করতে হবে। এ ছাড়া মাসে ২ দিন ছুটি দিতে হবে।’

আন্দোলনের কারণ জানিয়ে এক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের বেতন দেওয়ার কথা ১০ তারিখ। আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি করে ২০ তারিখ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। চীনারা আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয় না এবং আমাদের সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার করে। যার চাকরি চলে যায়, সে ৩৫ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ঢুকেছে। এ টাকাটা ম্যানপাওয়ার খায়। এখানে কিছু দোভাষী আছে, এরা চীনাদের দালাল। তাদের কাছে আমরা কোনো সাপোর্ট পাই না।’

তিনি বলেন, ‘৫ মিনিট দেরি হলে বলে, ম্যানি কাটিং। নাশতা খেতে বসলে তারা ছবি তুলে টাকা কাটে। তারা এ মাসের মধ্যে না হলে ৩০০ লোক কাটিং করছে। আমরা যোগাযোগ করলে বলে তোমার চাকরি তুমি রাখতে পারো নাই। আমাদের কিছু করার নাই।’

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এমদাদ কালবেলাকে জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁও স্টেশনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কর্মরত শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা কাজ শুরু করেছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com