আপনি কি যুদ্ধ বাধাতে চান? সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।পুরোনো ছবি

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের গোলা পড়া নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমারের গোলা ‘ভুলক্রমে’ বাংলাদেশে এসে পড়েছে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। মন্ত্রীর আশা, ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার যে অঙ্গীকার ইয়াঙ্গুন করেছে, তারা তা পূরণ করবে। এ সময় এক সাংবাদিক এ ঘটনায় বাংলাদেশের অবস্থান কী সে বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে ড. মোমেন ওই সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি কি যুদ্ধ বাধাতে চান?

জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন। সেখানেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের প্রসঙ্গ এলে সাংবাদিকের প্রশ্নের পর মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সেখানকার এক সাংবাদিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মিয়ানমারের গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ছে ও প্রাণহানি হচ্ছে, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ এ বিষয়টি জাতিসংঘে তুলবে কিনা, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও শক্ত হওয়া উচিত কিনা?

তখন মন্ত্রী ওই সাংবাদিকের কাছে পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, তিনি যুদ্ধ বাধাতে চান কিনা। উত্তরে সাংবাদিক জানান, তিনি সেটা বলছেন না। বাংলাদেশের অবস্থান তিনি জানতে চান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
মিয়ানমারের গোলা ছোড়ার ঘটনা উসকানিমূলক নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে সংঘাত হচ্ছে, এটা মিয়ানমারের সংঘাত। তাদের এখানে দুই দল মারামারি করছে আর যেহেতু অনেক লোক রোহিঙ্গা, এই সব লোক বর্ডার এলাকায়, নো ম্যানস ল্যান্ডে। বর্ডার এলাকার নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকে। এর ফলে তারা সেখানে এই মিয়ানমারের ঠিক সংঘাতে… সময়ে সময়ে আপনার কিছু গোলাগুলি…।’

মোমেন আরও বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের ওই এলাকার বর্ডারটা খুব ক্রিসক্রস। কখনো এটা বোঝা মুশকিল। তো সেই কারণে ওরা বলেছে যে, তারা টার্গেট করে আমাদের এখানে কিছু ফেলছে না। একটা দুটো যে পড়েছে, সেগুলো বাই মিসটেক। সুতরাং আমরা তাদের ডেকেছি। তারা আমাদের অঙ্গীকার করেছে যে, তারা এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবে।’

মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গাকে ‘মানবিক কারণে’ আশ্রয় দেওয়া হবে কিনা—আরেক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এবারে আমরা স্ট্রং পজিশন নিয়েছি। আমরা আমাদের এনটায়ার বর্ডারটা সিল করে দিয়েছি। যাতে একজন রোহিঙ্গাও আমাদের এদিকে ঢুকতে না পারে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা চীন সীমান্তের দিকে যাচ্ছে। আমাদের দিকে সাহস করে আসেনি। কারণ আমরা খুব শক্ত অবস্থান নিয়েছি যে এবারে আমরা একটা লোককেও…। কারণ যেগুলো আছে, ওইগুলোই এখনো ফেরত পাঠাতে পারিনি। শুধু আশায় আশায় আছি। ইনশাআল্লাহ ওরা ফেরত যাবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
সীমান্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের গোলায় কিশোর নিহত

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মিয়ানমার থেকে আসা গোলা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরিত হয়। তাতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। ওইদিন সকালেই ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে ‘মাইন’ বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের পা উড়ে যায়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com