তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল রবীন্দ্রসংগীত উৎসব

দুই দিনের রবীন্দ্রসংগীত উৎসবে অংশ নেন শিল্পীরা
দুই দিনের রবীন্দ্রসংগীত উৎসবে অংশ নেন শিল্পীরাছবি: কালবেলা

করোনাকাল পেরিয়ে প্রায় তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা। ‘এই জীবনে ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত’- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন অমিয় বাণী ধারণ করে আজ শুক্রবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হয় দুই দিনের রবীন্দ্রসংগীত উৎসব।

অগ্রহায়ণের মিষ্টি সকালে মঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ অতিথিরা। এবার তেত্রিশতম উৎসবে সম্মাননা দেওয়া হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও সংগীতশিল্পী রফিকুল আলমকে। তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ মূল্য তুলে দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের সংগীত জগৎকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন মাত্রা যোগ করে। ৩৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা প্রতিবারের মতো এবারও রবীন্দ্রসংগীত উৎসব আয়োজন করেছে। তাদের এ অসাধারণ আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।

সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, ‘জগতের বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। আমি আজ তার নামাঙ্কিত সম্মাননা পেলাম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা থেকে। এ সম্মাননাটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের।’

রফিকুল আলম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।’

উদ্বোধনী অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আমন্ত্রিত পাঁচটি দলের সমবেত পরিবেশনা। এতে অংশ নেয় সংগীতভবন, উত্তরায়ণ, সুরতীর্থ, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) ও বিশ্ববীণা। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম পর পর গেয়ে শোনান ‘উত্তর বায় জানায় শাসন/পাতলো তপের শুষ্ক আসন’ ও ‘ওই জানালার কাছে বসে আছে/করতলে রাখি মাথা—’ শিরোনামে দুটি গান।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার একই মঞ্চে বিকেল ৫টা থেকে হবে আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান। উৎসবের সারা দেশ থেকে প্রায় ২০০ শিল্পী একক ও দলীয় পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বুলবুল ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, রোকাইয়া হাসিনা, অদিতি মহসিন, ড. অরূপ রতন চৌধুরী, চঞ্চল খান, লিলি ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী।

প্রথম দিনের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন- খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, বুলা মাহমুদ, তানজিমা তমা, অনিকেত আচার্য, সাগরিকা জামালী, বিষ্ণু মণ্ডল, কনক খান, সীমা সরকার আবদুর রশীদ, রিফাত জামাল মিতু, খোকন দাস, আজিজুর রহমান তুহিন, শর্মিলা চক্রবর্তী আহমেদ শাকিল হাশমী, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমেদ, রাবিতা সাবাহ, ছন্দা রায়, নির্ঝর চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

৩৩তম উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে করোনাকালে যে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতজন মারা গেছেন তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com