গোলে হট্টগোল

গোলে হট্টগোল

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। পুরো ম্যাচে সবাই অধীর হয়ে থাকে, কখন হবে গোল! কিন্তু মাঝেমধ্যে এ গোলই হয়ে যায় বেশ একঘেয়ে! লিখেছেন ফয়সল আবদুল্লাহ।

১৪৯-০

ফিফা স্বীকৃতি দিক না দিক, ফুটবলের একটি ঘটনার স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। আর তা হলো, কোনো একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডও এটি। খেলাটা হয়েছিল ২০০২ সালের ৩১ অক্টোবর, মাদাগাস্কারের দুটি টিম এএস আদেমা ও এসও আইএমিরিনের মধ্যে। বাজে রেফারিংয়ের কারণে বিরক্ত হয়ে আইএমিরিন সিদ্ধান্ত নেয়, রেফারি যখন আমাদের হারিয়েই ছাড়বে, তখন প্রতিপক্ষকে জয়ের আসল স্বাদ দেওয়া যাবে না। আর তাই নিজেরা নিজেদের জালেই বল ঢোকায় গুনে গুনে ১৪৯ বার।

ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা ছিল ওটা। পুরো খেলা ঠিকঠাকই চলছিল। ২-১ গোলে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল আইএমিরিন। কিন্তু এরপরই রেফারি ‘অন্যায়ভাবে’ একটি পেনাল্টি দেয় এমিরিনের বিপক্ষে। তাতে খেলা ২-২ গোলে ড্র হয়। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলার আগেই তর্কাতর্কি হয় রেফারি ও দলটির কোচের সঙ্গে। ফলে একের পর এক আত্মঘাতী গোল দিতে থাকে আইএমিরিন।

এমন ঘটনায় প্রতিপক্ষ বিব্রতকর অবস্থায় চুপচাপ মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতেই বাধ্য হয়। আর গ্যালারির দর্শক হৈচৈ শুরু করে টিকিটের টাকা ফেরত চেয়ে।

এ ঘটনার পর মাদাগাস্কারের দলটিকে মালাগাসি ফুটবল ফেডারেশন শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আইএমিরিনের কোচ ও দলের চার খেলোয়াড়কে তিন বছরের জন্য চ্যাম্পিয়নশিপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

৩৬-০

এ রেকর্ডধারী খেলাটির ‘অভিমানী গোল’ নিয়ে খুব বেশি বিস্ময় না জাগলেও ১৮৮৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া দুই স্কটিশ ক্লাব আরব্রোথ ও বন অ্যাকর্ডের রেকর্ডটা মোটামুটি অফিশিয়াল। ওই খেলায় আরব্রোথ জিতেছিল ৩৬-০ গোলে। এতগুলো গোল হজমের নেপথ্যে অবশ্য অনেকে অনেক কারণের কথাই বলেন। প্রথম ওই সময় ফুটবল ছিল অপেক্ষাকৃত নতুন। এর মধ্যে আরব্রোথের ছিল সাত বছরের অভিজ্ঞতা। বন অ্যাকর্ড ক্লাব হিসেবে গঠিত হয় ১৮৮৪ সালে। ফুটবলের অনেক নিয়মকানুনই তারা ওই সময় জানত না। এমনকি মাঠেও নাকি তারা হাজির হয়েছিল পুরোপুরি তৈরি না হয়ে। ফলস্বরূপ প্রথমার্ধে বন অ্যাকর্ডকে হজম করতে হয় ১৫টি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে ২১টি। অবশ্য আরও পাঁচবার বল জালে ঢুকলেও অফসাইডের কারণে সেগুলো বাতিল হয়।

খেলার আরেক মজার বিষয় ছিল, আরব্রোথ দলের গোলকিপারের হাতে একবারও বল আসেনি। ম্যাচের পুরোটা সময় তিনি এক দর্শকের কাছ থেকে ছাতা ধরে এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

৩১-০

তবে কোনো বিতর্ক নেই অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকান সামোয়া টিমের খেলা নিয়ে। ২০০২ সালের ফিফা বাছাই পর্বের খেলায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলে ৩১টি গোল হজম করে আমেরিকান সামোয়া। ২০০১ সালের ১১ এপ্রিলের ম্যাচটি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কফস হারবারের একটি স্টেডিয়ামে। পেশাদারিত্ব ও বিতর্ককে বিবেচনায় নেওয়া হলে কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। আর ওই ম্যাচের সুবাদে কোনো একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এখনো দখল করে আছেন আর্চি থমসন। সামোয়ার জালে তিনি পুরেছিলেন ১৩টি গোল।

মজার ব্যাপার, এ খেলার দুদিন আগেই টোঙ্গাকে ২২-০ গোলে হারিয়ে কুয়েতের রেকর্ড ভাঙে অস্ট্রেলিয়া। ২০০০ সালে ভুটানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২০-০ গোলে জিতেছিল কুয়েত।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com