হেমন্তের টেবিলে সুমনের বিশদ সংসার

হেমন্তের টেবিলে সুমনের বিশদ সংসার

" সংসার ও ক্যারিয়ার দুটোই জীবনের অংশ। সেটা ভেবেই চলতে হয়। পরিবারের প্রাধান্য যেমন আছে, ক্যারিয়ার ভাবনাও থাকবে "

হিম হিম সাঁঝে ধানমন্ডির এক রেস্তোরাঁয় আড্ডায় মেতে ওঠা চিত্রনায়ক এ বি এম সুমন ও তার স্ত্রী মমির সঙ্গে। আর এ আড্ডার মাধ্যমেই পরিচয়-প্রণয় ও পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এলেন এ দম্পতি।

কয়েক বছর আগে ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে শুভকাজটি সেরেছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’খ্যাত এ অভিনেতা। ঘর বেঁধেছেন দীর্ঘদিনের বন্ধু বরাতুন্ নূর মমির সঙ্গে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক মমি রূপসজ্জাকর হিসেবেও পরিচিত। কুমিল্লা সদরে রয়েছে তার একটি বিউটি সেলুন।

আড্ডার শুরুতেই প্রশ্ন—কীভাবে পরিচয়? সুমন বললেন, ‘কমন বন্ধুদের এক আড্ডায়, সালটা ২০১৫। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব।’ বন্ধুত্ব কীভাবে প্রণয়ে… প্রশ্ন লুফে নিয়ে মমি বললেন, ‘বোঝাপড়াটা ভালো। আমার সম্পর্কে সুমন যেমন সব জানে, আমিও তার সব জানি। এভাবে কেটে যায় দেড় বছর। এরপর দুজনের সিদ্ধান্তে সম্পর্কে আসা।’

দুজনের উদ্দেশে একই প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম—জীবনসঙ্গী হিসেবে তাকেই কেন বেছে নিলেন? প্রথম উত্তরটা দিলেন সুমন—‘মমির কাছে আমি অন্যরকম একটা শান্তি পাই। ও খুব যত্ন নেয়। অনেক সমর্থন করে। এটা বুঝতে পারার পরই মনে হয়েছে জীবনের বাকি পথটা একসঙ্গে চলা যায়।’

মমি বললেন, ‘সুমন বন্ধু হিসেবে যতটা ভালো, জীবনসঙ্গী হিসেবে আরও চমৎকার। মনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। আমি ওর মনের প্রেমেই পড়েছি।’

জানতে চাইলাম—সুমনের অভিনয় দেখেন? মমি বললেন, ‘সবসময়ই দেখি। সর্বশেষ হৃদিতা ও বিউটি সার্কাসও দেখা হয়েছে।’

অভিনেতা হিসেবে সুমন কেমন? ভেবে বললেন মমি, ‘আমি তো অভিনয় দক্ষতা বিচারের কেউ নই। তবে মনে হয় দিন দিন ভালো হচ্ছে। বাসায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চরিত্র প্র্যাকটিস করে। মজার ব্যাপার হলো, কেউ বেড়াতে এলে আমাকে শুনতে হয়—সুমন ভাই কি পাগল হয়ে যাচ্ছেন! নিজে নিজে বিড়বিড় করেন!’

সুমন-মমির একমাত্র কন্যা ফ্রেয়া জামান। বয়স ১৪ মাস। আড্ডার ফাঁকে ফুটফুটে ফ্রেয়া বারবারই ছুটে আসছিল বাবার কাছে। প্রশ্ন ওঠে, মেয়ে কি বাবাভক্ত? মৃদু প্রতিবাদ মমির—‘দুজনকেই সমানভাবে চায়। তবে ঘুম থেকে উঠলে বাবার কোলেই ছোটে।’

সংসার ও ক্যারিয়ার একসঙ্গে সামলাতে বেগ পেতে হয়? উত্তর দিলেন সুমন—‘দুটোই জীবনের অংশ। সেটা ভেবেই চলতে হয়। পরিবারের প্রাধান্য যেমন আছে, ক্যারিয়ার ভাবনাও থাকবে। তবে মেয়েকে ছাড়া বেশি দিন থাকতে ভালো লাগে না। আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ড যাচ্ছি শুটিংয়ের জন্য। সেখান থেকে আমেরিকা যাওয়ার কথা। এর ফাঁকে কয়েক দিনের জন্য ঢাকায় আসব শুধু মেয়েকে দেখতে।’ কথার ফাঁকতালে দেখা গেল ঘুম ঘুম চোখ ফ্রেয়ার। অগত্যা ইতি টানতেই হলো আড্ডার।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com