প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে বেড়েছে মানব পাচার

জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ।ছবি : সংগৃহীত

বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনে মানব পাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) গ্লোবাল ট্রাফিকিং অন পারসন রিপোর্ট-২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়। সংস্থাটি বলেছে, মানব পাচারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ। আর এই বিষয়ে প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে, কারণ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষকে শোষণ করছে।

ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচারের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য আরেকটি বড় কারণ ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ। আফ্রিকার দেশ ঘানায় খরা এবং বন্যা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে হ্যারিকেনের আঘাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও অনেক মানুষকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মানব পাচারের ঝুঁকি ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি করছে। মানব পাচারের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পদ্ধতিগত বৈশ্বিক বিশ্লেষণের ঘাটতি থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় পর্যায়ের গবেষণায় মানব পাচারের মূল কারণ হিসেবে আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৪১টি দেশের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মানব পাচারবিষয়ক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ইউএনওডিসি। প্রতিবেদন তৈরিতে বিভিন্ন দেশের আদালতের মানব পাচার সংক্রান্ত ৮০০টি মামলার বিশ্লেষণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দরিদ্র খামারি, মৎস্য চাষি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সদস্য যারা প্রধানত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরেণের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ফ্যাবরিজিও স্যারিকা বলেছেন, একবার নিজেদের জীবিকা নির্বাহের বন্দোবস্ত থেকে উৎখাত হলে লোকজন তাদের সম্প্রদায় থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আর এসব লোকজনই মানব পাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com