আইনজীবীদের উত্তেজনা চরমে

আইনজীবীদের উত্তেজনা চরমে

আইনজীবী সমিতির (বার) একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের মধ্যে দিন দিন উত্তেজনা বাড়ছে। সরকার সমর্থক এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা প্রতিদিনই স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। মাঝে মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। ঘটছে ভাঙচুরের ঘটনাও। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবিধান সংরক্ষণ কমিটি ও তলবি সভা ডেকে গঠিত অ্যাডহক কমিটির আইনজীবী নেতারা। নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সংবিধান সংরক্ষণ কমিটি ও অ্যাডহক কমিটির নেতাদেরও আসামি করা হয়েছে। তবে অর্ধডজন মামলা দায়েরের পরও থেমে নেই আন্দোলন। দিন দিন আন্দোলনের গতি বাড়ছে।

সর্বশেষ গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর করেন আইনজীবীরা। এ ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ এক থেকে দেড়শ অজ্ঞাতপরিচয় আইনজীবীকে এতে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ফের দুপক্ষের আইনজীবীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এদিন বিএনপি ও সমমনা আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বড় ধরনের শোডাউন করেছেন। তারা সমিতির পুনর্নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে আদালত চত্বরে নৈরাজ্য-সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সরকার সমর্থক আইনজীবীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে সমাবেশ করেন। এ অবস্থায় অনেক সাধারণ আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, সর্বোচ্চ আদালতে এই বিশৃঙ্খল অবস্থা আর কতদিন চলবে? এর শেষ কোথায়?

জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা অপ্রত্যাশিত। দ্রুত এর সমাধান হওয়া উচিত। আমি মনে করি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বসে এর সমাধানের পথ বের করতে পারেন।’ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘সমিতির চলমান ঘটনার সমাধান করতে হলে প্রধান বিচারপতিকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি পুরো বাংলাদেশের বিচার বিভাগের অভিভাবক। গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই ভোটে অংশ নেননি সমিতির বিএনপি সমর্থক ও সমমনা আইনজীবীরা। একতরফা ভোটে সভাপতি, সম্পাদকসহ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদেই আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকেই সুপ্রিম কোর্টে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গতকাল দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে কয়েকশ আইনজীবী সমিতির মূল ফটকে সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক মহসিন রশিদ, বিএনপির আইন সম্পাদক ও আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল, সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক প্রার্থী ও সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, এসসিবিএ সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মামুন মাহবুব প্রমুখ। সমাবেশে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আজকে তারা সারা দেশের মতো সুপ্রিম কোর্টেও ভোট ডাকাতি শুরু করেছে। ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। আর পিছপা হব না।’

এদিকে সমিতির এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের শুরুর দিন থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা পুলিশ বাদী হয়ে করা, একটি মামলা করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এবং বাকি চারটি মামলা করেছেন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাদী হয়ে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. কামরুল ইসলাম সজল, বারের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক মো. মহসিন রশিদ, অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল, সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ অনেককেই। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে কয়েশ আইনজীবীকে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com