দুদক হটলাইনে বছরে ৩৯৪৮৮ ফোন

দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশন।ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতির কারণে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে সরকারি অফিসের ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির চলমান ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে ২০১৭ সালে হটলাইন নম্বর ১০৬ চালু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ ১০৬ নম্বরে ফোন করে থাকে। তথ্য বলছে, গত এক বছর দুদকের ১০৬ নম্বরে ৩৯ হাজার ৪৮৮ জন কল করেছেন। যার মধ্যে ১ হাজার ৭৬২টি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়। এসব অভিযোগ থেকে গত এক বছরে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ৪৫৬টি অভিযান পরিচালনা করে। একই সময়ে ৯১৩টি অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়। দুদকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অভিযোগ জানাতে ১০৬ নম্বরে ৩৯ হাজার ৪৮৮টি কল আসে। এতসংখ্যক ফোনকল থেকে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৬২টি। এ ছাড়া সংস্থাটির দৈনিক ও সাম্প্রতিক সেলের ১৪৮টি, সোশ্যাল মিডিয়ার ৭৭টি এবং বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৫৬৩টিসহ মোট ২ হাজার ৫৫০টি অভিযোগ রেকর্ড করা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ৪৫৬টি অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। একই সময়ে ৯১৩টি অভিযোগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় চিঠি পাঠানো হয়। এনফোর্সমেন্ট ইউনিট বছরজুড়ে এক হাজার ৮৮৪টি অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হটলাইনের অভিযোগ থেকে ২০২২ সালে ৫টি মামলা দায়ের, ৬৩ অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের অনুসন্ধান শুরুর অনুমোদন, ১৪২টি অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় চিঠি পাঠায়। এ ছাড়া অভিযানকালে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা, জাল-জালিয়াতির অভিযোগে ১৩ জনকে কারাদণ্ড, ঘুষের ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার, ১১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ৪০ শতাংশ খাসজমি উদ্ধার, ২০ টন চাল উদ্ধারসহ বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

দুদকের তথ্য মতে, প্রতিবছরই দুদকে হাজার হাজার লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে দুদকের এখতিয়ারভুক্ত অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয় এবং বাকি অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১৯ হাজার ৩৩৮টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। এর মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের ১১ হাজার ৭৯৬টি, সরকারি দপ্তর ও সংস্থার ৯৬৭টি, বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থার ৩৮৭টি, গণমাধ্যমের ১ হাজার ৩৫৪টি, দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়ের ১ হাজার ৫৪৭টি এবং এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের ৫৮০টি অভিযোগ রয়েছে। কমিশন এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে ৯০১টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে, যা মোট অভিযোগে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। বাকি ৯৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। দুদকে আসা ১৫ হাজার ২৮৫টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয় এবং ৩ হাজার ১৫২টি অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় চিঠি পাঠায় দুদক।

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, হটলাইনে আসা বেশিরভাগ অভিযোগই কমিশনের এখতিয়ার-বহির্ভূত হওয়ায় সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারেন না তারা। তবে হটলাইনে পাওয়া অভিযোগ থেকে অনেক বড় তদন্ত, মামলা ও চার্জশিট হয়েছে এবং বিচারও চলছে।

তারা আরও বলেন, হটলাইন ১০৬ ও লিখিত অভিযোগ সব মাধ্যম মিলিয়ে প্রচুর পরিমাণ অভিযোগ আসছে সংস্থাটির কাছে। যেসব অভিযোগের সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত থাকে সেগুলো দুদকের এখতিয়ারভুক্ত না হলে ওই অভিযোগগুলো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থায় পাঠানো হয়। কিছু অভিযোগ এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনে পাঠানো হয়।

দুদকের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে এই হটলাইন নম্বর ১০৬ চালু করা হয়। ওই বছর দেশের নাগরিক, গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৭ হাজার ৯৫৩টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য বাছাই করা হয়েছে ৯৩৭টি এবং ৩৭৭টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। হটলাইন চালুর পর দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছিলেন, ১০৬ নম্বর হটলাইনটি মূলত বানানো হয়েছে দুর্নীতি দমন নয়; বরং প্রতিরোধের জন্য। অর্থাৎ একটি দুর্নীতির ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে–এমন তথ্য পেলে সেখানে জনবল পাঠিয়ে সেটি রুখে দেওয়াই ছিল এই হটলাইনের মূল উদ্দেশ্য।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com