চার মাসেও উদ্ধার হয়নি ১৫ লাখ টাকা

চার মাসেও উদ্ধার হয়নি ১৫ লাখ টাকা

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজমুল আহসানের বাসা থেকে চুরি যাওয়া ১৫ লাখ টাকা চার মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো টাকার উৎস খোঁজার দাবি উঠেছে।

যদিও এডিসি নাজমুলের দাবি, এক বন্ধুর চিকিৎসার জন্য কয়েক বন্ধু মিলে টাকাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তারা। তবে মামলার এজাহারে এ বিষয়টি উল্লেখ করেননি তিনি। গত ৩ জুলাই এডিসি নাজমুল আহসানের বাসার লকার থেকে ১৫ লাখ টাকা চুরি যায়।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘যদি ১৫ লাখ টাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার বাসায় থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে টাকাটা কীভাবে এলো। পরিপূর্ণ তদন্তে পুলিশকে অবশ্যই যাচাই করতে হবে টাকাটা ছিল কিনা? থাকলে, এর উৎস জানতে পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত করতে পারে।’ এডিসি নাজমুল আহসান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার কাজীর দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ারের নবম তলার ফ্ল্যাট-জি-৯/২ এ ভাড়া বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৪ জুলাই নাজমুল গৃহকর্মী মনির হোসেন মুরাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মনিরকে গ্রেপ্তার করলেও মেলেনি টাকার হদিস।

মামলায় এডিসি নাজমুল আহসান উল্লেখ করেন, মনির এক বছর ধরে তার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছে। তাই বাসায় কোথায় কী, সব বিষয়ে সে অবগত এবং লকারে টাকা রাখার বিষয়টিও সে জানত। তিনি প্রতিদিনের মতো ৩ জুলাই সকাল ১১টার দিকে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনিরও তার সঙ্গে বের হয়। সন্ধ্যা ৬টায় বাসায় ফেরার পর তিনি দেখেন বাসায় ওয়ার্ডরোবের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় শোবার ঘরের মেঝে ও খাটের ওপর পড়ে আছে। ওয়ার্ডরোবের তালা ভাঙা ও সেখানে রাখা ১৫ লাখ টাকা নেই।

এজাহারে আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি থানায় জানান এবং ভবনের ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে গিয়ে সিসি টিভি ফুটেজে দেখেন, মুখে মাস্ক পরা লাল রঙের শার্ট, জিন্সের প্যান্ট পরিহিত ব্যক্তি দুপুরে ভবনের শপিং ব্যাগ সংলগ্ন গেট দিয়ে শাবল নিয়ে ভেতরে ঢোকে। ৯ম তলায় তার ফ্ল্যাটে ঢোকে, পরে বিকেলে হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এডিসি নাজমুলের অভিযোগ, কারও সহায়তায় মনির এ কাজ করেছে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান বলেন, ‘এডিসির বাসায় চুরির ঘটনার তদন্ত চলছে। যদিও এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।’

বাসায় এত নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে এডিসি নাজমুল বলেন, ‘আমার এক ব্যাচমেটের কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য টাকাটা আমরা ব্যাচ থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠিয়েছি।’

সেই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। এ ঘটনায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তার বাসায় এত টাকা কীভাবে এলো, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। জেলা প্রশাসকের উচিত বিষয়টি খোলাসা করা, দুদকের উচিত তদন্ত করা।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (উপপরিদর্শক) এসআই ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার মনিরের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য মেলেনি।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com