মাশরাফীর কাছে সাকিবের হার

ম্যাচ শুরুর আগে সাকিব ও মাশরাফী
ম্যাচ শুরুর আগে সাকিব ও মাশরাফী

ম্যাচ শেষ হতেই ড্রেসিংরুমের সামনে থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে যাচ্ছিলেন ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান। হতাশ সন্তান মায়ের কাছে বরিশালের হারের কারণটা জানতে চাচ্ছিল। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে তাদের দল হেরেছে মাত্র ২ রানে। হয়তো আফসোসটা তাই একটু বেশি পোড়াচ্ছে ছোট্ট শিশুটিকে। মাও তার ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়েছেন পরের ম্যাচে জেতার স্বপ্ন দেখিয়ে।

টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে গতকাল মুখোমুখি হয়েছিল সিলেট-বরিশাল। পয়েন্ট সমান থাকায় শীর্ষে ওঠার জন্য ম্যাচটি সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে ম্যাচে সাকিবদের হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল মাশরাফীর সিলেট। টুর্নামেন্টে দুই দেখায় দুইবারই জিতেছে সিলেট। সাত ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে বরিশাল।

১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ম্যাচটির নিয়ন্ত্রণ ১৬তম ওভারেই হারায় বরিশাল। ২৪ বলে দরকার ছিল ৪২ রানের। মোহাম্মদ আমিরের করা ওভারটির প্রথম বলে ১ রান নেন বিধ্বংসী ব্যাটার ইফতেখার আহমেদ। পরের পাঁচ বলই ডট দেন করিম জানাত। শেষ বলে আমিরের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অথচ আগের ওভারে টানা তিনটি ছক্কা মেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনেছিলেন করিম। ওই ওভারের ঘাটতিটা বরিশালকে যে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি, সংবাদ সম্মেলনে আসা খালেদ আহমেদও স্বীকার করে নিলেন তা। একই সঙ্গে চাপা পড়া সিলেটকে আরও চেপে ধরতে গিয়ে ১৫ রানের মতো বেশি দিয়ে দেওয়ার কথাও বললেন খালেদ।

আগের দিনের তুলনায় গতকাল উইকেট অনেক ভালো ছিল। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। সর্বশেষ কয়েক ম্যাচে ভালো ফিল্ডিং হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি। শুরুতে সে সুযোগও তৈরি হয়েছিল। খালেদের করা ইনিংসের চতুর্থ বলটি থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে ছয় মেরেছিলেন সিলেটের উদ্বোধনী ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। ফিল্ডার জানাত একটু পেছনে গেলেই বলটি তালুবন্দি করে শান্তকে ফেরাতে পারতেন। এরপর শান্তকে আর ফেরাতে পারেনি বরিশালের বোলাররা। ১৫ রানে ৩ উইকেট পড়া সিলেটকে দারুণভাবে এগিয়ে নেন শান্ত। প্রথমে টম মুরসের সঙ্গে গড়েন ৮১ রানের জুটি, পরে থিসারা পেরেরাকে নিয়ে গড়েন আরও ৬৮ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত ৬৬ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত। রান তাড়ায় ৪২ রানের দারুণ শুরু পায় বরিশাল। ১৯ বলে ৩১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ওপেনার সাইফ হাসান। তৃতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়েন সাকিব। ১৪তম ওভারে এসে এ দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রেজাউর রহমান রাজা। পরের ওভারে ঝড় তোলেন জানাত; কিন্তু আমিরের বুদ্ধির কাছে হার মেনে সাজঘরে ফেরেন ১২ বলে ২১ রান করা এ ব্যাটার। মাহমুদউল্লাহ, ইফতেখার, মিরাজের আসা-যাওয়ার ফাঁকে রানও পায় বরিশাল। শেষ ১২ বলে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩। এবারও আমির এসে রানের চাকা স্লো করে দেন। ৬ বলে তখন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫ রানের। শেষ পর্যন্ত যা হয় ২ বলে ১৩। দুই বলে ছয় হলে ম্যাচটি যেত সুপার ওভারে। রাজাকে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটার ওয়াসিম জুনিয়র লং অনের ওপর দিয়ে বলটি ফেলেন গ্যালারির কাছে। শেষ বলেও ম্যাচ হতে পারত যেকোনো দলের। রাজার লেগ সাইডে ফেলা বলটি ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকান ওয়াসিম। দুই রানে হারে বরিশাল।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com