বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের রাজধানী হচ্ছে আরব!

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের রাজধানী হচ্ছে আরব!

মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ক্রমেই বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের রাজধানী হয়ে উঠছে। কী কারণে হঠাৎ ক্রীড়াঙ্গনে এমন আলোড়ন তুলছে আরব দেশগুলো?—প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তার উত্তর খোঁজা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

অলিম্পিক ও বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব জনমত প্রভাবিত করা ও বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ডকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার উদ্দেশ্য থাকে। এ প্রকল্পগুলো ব্যয়বহুল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে তার আর্থিক সুফল পাওয়া যায় না। সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চা আছে—এমন দেশগুলোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া যায় না এমন বড় বিনিয়োগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই দেখা হয়। কারণ অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাবের কারণে জনগণের কাছে জবাবদিহির বিষয় থাকে। এ জায়গায় রাজতন্ত্রের প্রচলন থাকা দেশগুলো ভিন্ন।

লুসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্টিন মুলার, ডেভিড গগিশভিলি ও সভেন ড্যানিয়েল উলফ ক্রীড়া অর্থনীতির ওপর সাম্প্রতিক গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, মেগা ইভেন্ট আয়োজনের খরচ ক্রমেই বাড়ছে। ৪৩ অলিম্পিক গেমসে বিনিয়োগের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, আসরগুলোর বিনিয়োগের তুলনায় গড়ে ৩৮ শতাংশ গচ্ছা দিয়েছে আয়োজকরা। ওটা তাৎক্ষণিক হিসাব। মেগা ইভেন্ট ঘিরে অবকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি সুফল অবশ্য দেশগুলো পরবর্তী সময়ে ঠিকই পেয়েছে। কিন্তু বিপুল বিনিয়োগের তাৎক্ষণিক সুফল না আসায় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের কট্টর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। রাজতন্ত্রে তেমন সমালোচনা ও রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকার ঝুঁকি নেই। এ কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো মেগা ইভেন্টে বিনিয়োগ করছে উদারহস্তে। যার তরতাজা উদাহরণ সদ্য সমাপ্ত কাতার বিশ্বকাপ।

২০০৮ সালে আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি কেনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোর মোটা দাগে ক্রীড়াঙ্গনে বিনিয়োগ শুরু। ২০১১ সালে ক্লাবটির হোম গ্রাউন্ড আমিরাতি বিমান সংস্থার নামে নামকরণ হয় ‘ইত্তিহাদ স্টেডিয়াম’। একই বছর কাতার ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ ফরাসি ক্লাব পিএসজি কিনে নেয়। ২০২১ সালে সৌদি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে আরেক ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড কেনা হয়েছে। আরব দেশগুলোর ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগের সর্বশেষ সংস্করণ ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসরে যোগদান।

কেবল ফুটবল নয়, উপসাগরীয় দেশগুলো অন্যান্য খেলায়ও নিয়মিত বিনিয়োগ করছে। যার অন্যতম ফর্মুলা ওয়ান রেসিং। এরই মধ্যে এ খেলার প্রধান ভেন্যু হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব। কাতার শিগগিরই দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দিতে যাচ্ছে। সৌদি আরব প্রধান বক্সিং ম্যাচ, মিক্সড মার্শাল আর্ট ইভেন্ট এবং পিজিএ ট্যুরের প্রতিদ্বন্দ্বী এলআইভি গলফ স্পন্সর করছে। সম্প্রতি দুটি জাতীয় বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন দল—মিলওয়াকি বাকস এবং আটলান্টা হকস আবুধাবিতে প্রাক-মৌসুম ম্যাচ খেলেছে; যা মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম।

সৌদি আরব পরিকল্পিত নিওম স্মার্ট সিটির বাইরে একটি রিসোর্টে ২০২৯ এশিয়ান শীতকালীন গেমস আয়োজন করতে চায়। এ জন্য দেশটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত তুষার এবং বরফ থাকবে। সৌদি আরব এবং কাতার অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। মিশর ও গ্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ২ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ৫৩ কোটি টাকা প্রাইজমানির পিআইএফ সৌদি ইন্টারন্যাশনাল গলফ। ফেব্রুয়ারিতে ওমানে ২০ কোটি টাকার ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ ও কাতারে ২৬ কোটি টাকার ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com