শান্তর চাপা কষ্ট


বিপিএলে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল সময় পার করছেন শান্ত। সাত ম্যাচে রান  করেছেন ২৮১
বিপিএলে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল সময় পার করছেন শান্ত। সাত ম্যাচে রান করেছেন ২৮১

ম্যাচসেরা হয়েও সংবাদ সম্মেলনে আসতে চাননি নাজমুল হোসেন শান্ত। মাঠ পেরিয়ে আসার সময় নিজেই বলেছিলেন সে কথা। এরপর ফিরে যাওয়ার সময় গ্যালারিতে থাকা দর্শকের অনেকেই ‘শান্ত, শান্ত, শান্ত’, বলে চিৎকার করে যাচ্ছিলেন। তবু নির্ভার সিলেট স্ট্রাইকার্সের এ ব্যাটার। স্বাভাবিকভাবে ড্রেসিং রুমের দিকে চলে গেলেন বাঁহাতি ওপেনার। এখন দর্শকদের ভালোবাসা পেলেও শান্তর মনে জমে আছে চাপা কষ্ট। পারফরম্যান্সের জন্য যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক মন্তব্যে বিদ্ধ হচ্ছিলেন, তখন পরিবারের কথা ভেবে মন খারাপ হয়েছিল তার।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার শান্ত। সর্বশেষ এক-দেড় বছর ধরে নিয়মিত দলের সঙ্গে তিনি। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপেও ছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান স্কোরার। তবু দর্শক খুশি করতে পারেননি। উল্টো একের পর এক সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছিলেন। কয়েকদিন আগে তো আক্ষেপ করে বলেই ফেলছিলেন, ‘মনে হয় আমি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছি।’

সে শান্ত গতকাল খাদের কিনারা থেকে সিলেটকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন। ৪৮ বলে ফিফটির পর ৬৬ বলে খেলেন ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। রোমাঞ্চকর ম্যাচে দলও জিতে নিশ্চিত করেছে টেবিলের শীর্ষস্থান। সংবাদ সম্মেলনে আসা শান্তকে পেছনের সমালোচনার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বাইরের কথা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। দল যে জিনিসটা চাচ্ছে, সেটা আমি দিতে পারছি কিনা, সেটাই আসল বিষয়। আমার মনে হয় আমি দিতে পারছি এবং আরও ভালো কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আমার আছে।’

ব্যক্তিগতভাবে শক্ত মানসিকতার ক্রিকেটার শান্ত। বাংলাদেশ দলে থাকা তার সতীর্থরাই বলেন এমন কথা। কিন্তু খেলার বাইরেও তার একটা পরিবার আছে। যারা নেতিবাচক বিষয়গুলোর শিকার হচ্ছেন। শান্ত সে কথা মনে করিয়ে দিলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়গুলো আমার জন্য যতটা কঠিন, তার থেকে বেশি কঠিন আমার পরিবারের জন্য। কারণ সত্যি বলতে আমি যেভাবে বুঝি, আমার পরিবার সেভাবে বুঝে না। তারা কষ্ট পায়, তাদেরও খারাপ লাগে, তারা বাইরে যায়। এ জিনিসটার জন্য আমি হয়তো একটু মাঝেমধ্যে হতাশ হয়েছি, আমার খারাপ লেগেছে।’

স্কিল, সামর্থ্য কিংবা নিবেদন—তিন জায়গায় তার ঘাটতি খুঁজে পাওয়া কঠিন। নেটে কোচদের সবচেয়ে পছন্দের ছাত্রও তিনি। খারাপ করলে সমালোচনা হবেই মেনে নিয়ে আরও একটু শালীন সমালোচনার আহ্বান জানালেন শান্ত, ‘অনেকেই না জেনে না বুঝে অনেক কিছু বলে ফেলে। দলের পরিকল্পনা, আমার পরিকল্পনা বা আমার কষ্ট–এটা হয়তো অনেকে জানে না। জানার হয়তো প্রয়োজনও নেই। এটা নিয়ে যত বেশি কথা বলব, বলাই হবে। জেনেশুনে বললে আমার মনে হয় ভালো। আমাকে নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না, এমন না। আমি খারাপ করলে অবশ্য করা যাবে। তবে সেটা আরেকটু শালীনভাবে করা যেত।’

চলমান বিপিএলে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল সময় পার করছেন শান্ত। সাত ম্যাচে ৫৬.২০ গড়ে রান ২৮১—স্ট্রাইকরেট ১১৪.২২। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনে তিনি। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন বাঁহাতি এ ব্যাটার। তবু যেন দর্শক-সমর্থক ও সমালোচকদের মন ভরাতে পারছেন না তিনি। তবে এসব এখন আর খুব একটা ভাবাচ্ছে না ২৪ বছর বয়সী এ ব্যাটারকে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com