দোকানে দোকানে ছাঁটাই আতঙ্ক : শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি

দোকানে দোকানে ছাঁটাই আতঙ্ক : শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির জন্য তেমন কোনো সুসংবাদ নেই। তবে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, বৈশ্বিক সংকট থাকবে মাত্র এক বছর। ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বের অর্থনীতি আবার স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে। সংস্থাটি বলছে, চলমান সংকটের কারণে আগামী বছর বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমবে, মূল্যস্ফীতির থাবা আরও বেড়ে যাবে। বিনিয়োগ মন্দায় বাড়বে বেকারত্ব, শ্রমের মূল্য কমে যাবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতাও কমে যাবে। কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ খাতেও উৎপাদন কমবে। এতে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বের প্রায় সব দেশ এখন চড়া মূল্যস্ফীতির কবলে আক্রান্ত। আগামী বছরে এ হার আরও বাড়বে। মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা আরও বেড়ে যাবে। সুদের হার বেড়ে গিয়ে বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে। এর মধ্যে বাংলাদেশের মুদ্রার মান আরও কমে যাবে। রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যে বিঘ্ন করোনার সময় থেকে ঘটছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আরও বেশি প্রকট হয়েছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একদিকে দাম বেড়েছে, অন্যদিকে উৎপাদনও কম হয়েছে।

বৈশ্বিক মন্দার বিরূপ প্রভাব এরই মধ্যে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। কমেছে বৈদেশিক আয়, ব্যয় মেটাতে টান পড়েছে রিজার্ভে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। চরম বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সব ধরনের দোকানে কমে গেছে বেচাকেনা। সারা মাস ব্যবসা করেও কারও কারও দোকান ভাড়ার টাকা উঠছে না। কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেকেই ছোট করে ফেলছেন ব্যবসা। বেশিরভাগ মালিক কর্মচারী ছাঁটাইসহ খরচ কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এতে সংকটে পড়েছেন দোকান কর্মচারীরা। এরই মধ্যে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। আর ছাঁটাই আতঙ্কে দিন পার করছেন অন্যরা।

মঙ্গলবার কালবেলায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৬ লাখ ৭৬৩। এর মধ্যে বিভিন্ন মার্কেট ও পাড়া-মহল্লা মিলিয়ে ঢাকায় দোকানের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখের মতো। মালিক ও কর্মচারী মিলিয়ে সারা দেশে এ খাতে কাজ করেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। সমিতির নেতারা বলছেন, ব্যবসায় মন্দার কারণে সারা দেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ দোকান কর্মচারী চাকরি হারাতে পারেন। ঢাকায় এ সংখ্যা সাত থেকে আট লাখ হতে পারে। ঢাকার একাধিক মার্কেটের দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, কোনো কোনো মার্কেটে এরই মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। আমরা মনে করি, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। এ কথা মিথ্যে নয় যে, বৈরী পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্মমতার শিকার হয় শ্রমজীবী মানুষ। কোনো সভ্যসমাজে এমনটি কাম্য নয়। সংকটকালে আমাদের সবার উচিত অসহায় মানুষের পাশে থাকা।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com