ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপে এ বছর এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। হাসপাতালে ভর্তি ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। একপ্রকার মহামারি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। করোনা মহামারির পর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

বিশ্বে প্রতিবছর ৫ থেকে ৫০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় এবং ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ছিল অন্য সব সময়ের চেয়ে বেশি। ওই সময় সারা দেশের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। মৃত্যু হয় দুই শতাধিক মানুষের। শিশুরাও অধিক হারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। ২০১৯ সালের আগে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ২০০০ সালে ৯৩ জন। গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জন মানুষ মারা যায়। নির্মাণাধীন বাড়িতে সব থেকে বেশি এডিস মশার জন্ম হয়। কারণ সেখানে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে এবং সেগুলো তদারকির ব্যবস্থা থাকে একেবারেই কম। এ কারণে নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে। গত বছর ঢাকা সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমে এক বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এ বাড়িতেই এর আগে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় একই কারণে। তার মানে একবার জরিমানা এবং সতর্ক করার পরও তারা সচেতন হননি। সব থেকে বেশি অবাক হয়েছিলাম ওই বাড়ির মালিকের কথা শুনে। তিনি বলেছেন, বৃষ্টি সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন, তা পানি কোথায় আটকে থাকল সেটা দেখার দায়িত্ব কি আমার নাকি! জনগণ একদমই সচেতন নয়। আর কর্তৃপক্ষের মশক নিধন কার্যক্রম সব জায়গা সমানভাবে চলছেও না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণ এবং কর্তৃপক্ষ সবার এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক ক্যাম্প করা উচিত। বাড়ির আশপাশে যেন কোনো জায়গায় পানি না জমে তা দেখতে হবে। বাড়ির আশপাশে ভাঙা পাত্র, টব, বোতলসহ কোথাও যেন পানি জমে না থাকে তা খেয়াল করতে হবে। মশা সৃষ্টির স্থান ধ্বংস করতে হবে।

এডিস মশা সকাল ও সন্ধ্যার সময় বেশি কামড়ায়। তাই এ সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত এ বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। সবার সচেতনতাই এখন পারে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে।

সুকান্ত দাস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com