জড়িতদের আইনের আওতায় আনুন

নাটক সাজিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি
জড়িতদের আইনের আওতায় আনুন

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার। চাল, ডাল, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, মাছ-মাংস, ডিম, মসলাসহ সব নিত্যপণ্যই বিক্রি হচ্ছে চড়া দরে; শিশুখাদ্যের দামও আকাশছোঁয়া। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কিছু পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। অথচ বাজারে সব পণ্যের দামই বেড়ে চলেছে। কারণ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান। তারা ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে এভাবে ক্রেতাস্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বস্তুত বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বেপরোয়া মুনাফা করার সুযোগ পায়। কিন্তু সিন্ডিকেট বরাবর অধরাই থেকে যাচ্ছে। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা অনেক দিন ধরেই বলছেন তারা বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন। কিন্তু আমরা দেখছি উল্টো চিত্র। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। সিন্ডিকেটে ইচ্ছেমাফিক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে মন্ত্রী-আমলাদের কিছু তৎপরতা দেখা যায়। কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীদের আড়তে অভিযান চলে, কোনো কোনো খুচরা ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানাও হয়। কিন্তু রাঘববোয়ালরা আড়ালেই থেকে যান। ব্যবসায়ীদের কারসাজির কাছে সরকার পেরে ওঠে না। যদি সরকার ডালে ডালে তাদের খোঁজে, তারা চলে পাতায় পাতায়।

বুধবার কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে চাহিদা অনুযায়ী নিত্যপণ্যের সংকট ও দাম খেয়ালখুশিমতো বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহকারী মিলমালিক ও বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগসাজশের প্রমাণ পেয়েছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি দাবি করেছে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি ও গমের মোট বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগসাজশ ও কারসাজির মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে দেশের বাজারে পণ্য সরবরাহে ঘাটতি থাকার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। এ ছাড়া সরকারবিরোধী কিছু স্বার্থান্বেষী মহল মাঝেমধ্যেই বাজারে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ সংকট সৃষ্টি বা মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এমন গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে একশ্রেণির ভোক্তা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে মজুত করছেন। এ ধরনের গুজব নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়।

আমরা মনে করি, আমাদের নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি খুবই দুর্বল। এ দুর্বলতার সুযোগে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট অনেক দিন ধরেই নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই মধ্যস্বত্বভোগীরা উৎপাদন পদ্ধতি এবং উৎপাদন সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবুও তাদের কারসাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদনকারী প্রান্তিক কৃষক এবং ভোক্তারা। বাজারসংশ্লিষ্টদের উচিত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আমলে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। এটা স্পষ্ট হয়েছে, দেশের অসাধু ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। উপদেশে তাদের এ চরিত্র বদল হওয়ার নয়। তাই বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। সেই সঙ্গে সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রান্তিক কৃষক এবং ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় সরকার গৃহীত বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো আরও গতিশীল ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com