সুন্দরবনকে রক্ষা করুন

বাংলাদেশের দুর্গ হলো সুন্দরবন। সরকারের উচিত এই দুর্গকে বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া
সুন্দরবনকে রক্ষা করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা ছবি দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ছবিটা এমন ছিল যে, চারটি সন্তানের পেছনে তাদের পিতা দাঁড়িয়ে আছেন এবং অভয় দিয়ে বলছেন, যত বিপদই আসুক তার আঁচ তোমাদের গায়ে লাগবে না। বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের পেছনেও পিতার মতো ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিস্তীর্ণ বনভূমি। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ম্যাপলক্রাফট’ কয়েক বছর আগে ১৭০ দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৬টি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। তার ওপর গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে যতগুলো দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সারা বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয় আমাদের দেশকে। ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস এগুলো আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সবকিছু বিবেচনা করলে একটা বিষয় লক্ষ করা যায়, তা হলো—একটি ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানল, এতে যতটা ক্ষয়ক্ষতির আভাস থাকে তার অনেক কম ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর কারণ সন্তানরূপ দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের পেছনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করছে পিতাস্বরূপ একটি বনভূমি। হ্যাঁ! সুন্দরবনের কথাই বলছি। দেশের দক্ষিণাঞ্চল তো বটেই, বরং সমগ্র দেশকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। পৃথিবীর সব থেকে বড় ম্যানগ্রোভ বন। বিগত সময়ের বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুন্দরবন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করেছে।

কিন্তু সব থেকে পরিতাপের বিষয় হলো, সেই পিতাসম সুন্দরবনের প্রতি আমরা সবসময় অবিচার করেছি। কুপুত্র যেমন পিতাকে কষ্ট দেয়, আমরাও ঠিক একই কাজ করছি। নির্বিচারে সুন্দরবনের গাছ কাটা হচ্ছে। দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত দেশের দুর্গকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিনিয়ত সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। অনেক সময় বন বিভাগের লোকজনও এ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে। সরকারের এ বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত।

একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ ১০ জন মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করে। গত কয়েক বছরে সুন্দরবনের গাছ কাটার ফলে আমরা আমাদের বেঁচে থাকার ভরসাস্থল ধ্বংস করেছি। বাংলাদেশের দুর্গ হলো সুন্দরবন। সরকারের উচিত এই দুর্গকে বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। যেসব সরকারি লোক এ কাজে জড়িত থাকবে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা। গাছ কাটা বন্ধে কঠোর আইন এবং তার প্রয়োগ করা। যেভাবেই হোক সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। গাছ কাটা বন্ধ করে যে কোনো মূল্যে দেশের রক্ষাকবচ সুন্দরবনকে রক্ষা করতেই হবে।

সুকান্ত দাস, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com