অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই : অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক

অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই : অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক
প্রতীকী ছবি

দেশের স্বাস্থ্য খাত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও এটাকে যে এখনো জনবান্ধব খাতে পরিণত করা সম্ভব হয়নি, এটি সর্বৈব সত্য ও আমাদের ব্যর্থতারই পরিচয় বহন করে। এ খাতটিতে রয়েছে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে নানা রকমের অভিযোগ। বিশেষ করে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে একদিকে যেমন রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো ঘাটতি। তেমনি যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তারও যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। উপরন্তু, দেশজুড়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ ক্লিনিকগুলোয় তো রমরমা ব্যবসা চলেই।

আমাদের দেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল ও দরিদ্র একটি দেশ। এখানকার অধিকাংশ মানুষেরই বসবাস গ্রামে। জীবন-জীবিকা নিয়ে দিশেহারা মানুষের অন্যতম প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত এই রাষ্ট্রীয় সেবাটি পাওয়ার জন্য একমাত্র আঞ্চলিক সেবা প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশা যেন কাটছেই না।

মঙ্গলবার কালবেলায় প্রকাশিত ‘৫৮ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।

২০২০-২১ সালে প্রায় সাত মাস সময়ের মধ্যে করা দেশের ৯টি জেলা হাসপাতাল ও ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সার্ভে চেকলিস্টের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ৭৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, তত্ত্বাবধায়ক, মেডিকেল অফিসারের মতামত ও সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে একটা গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

গবেষণা বলছে, দেশের প্রায় ৫৮ দশমিক ৮০ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই। অনেক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া উপজেলা হাসপাতালে ৬৩ শতাংশ মেডিকেল অফিসার এবং ৭৭ শতাংশ জুনিয়র-সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ খালি। এসব কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া অবকাঠামোগত নানা সমস্যাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপও চিকিৎসকদের সেবাদানে বাধা সৃষ্টি করে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষক দলের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নেই। ফলে বিভিন্ন সময় চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মুখোমুখি হন, যা স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।

দেখা যায়, যে দেশের মানুষের একটি উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা থাকে এবং জনগণ সুস্বাস্থ্যের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে, সে দেশ তত বেশি উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকেও গতিশীল থাকে। আমরা চাই, দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি হোক। যেহেতু দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও দুর্বল, সেহেতু উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন অতীব জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যে সংকট ও ঘাটতি বিরাজমান, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা এ বিষয়ে কোনোরকমের কালবিলম্ব না করে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ও সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com