সংকট ও ভোগান্তি নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ জরুরি

এনআইডি সংশোধনে আবেদনের স্তূপ
সংকট ও ভোগান্তি নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ জরুরি

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন নিয়ে বিড়ম্বনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। সরকারিভাবে নাগরিকদের ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া শুরুর পর থেকেই এ জটিলতার সূচনা। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ভুল হলে নানারকম হয়রানিতে পড়তে হয়। কেউ বেতন পাচ্ছেন না, কেউবা ব্যাংকের নিয়মের জটিলতায় পড়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। পরিচয়পত্রে ভুল থাকায় অনেক হতদরিদ্র ভিজিএফসহ বিভিন্ন ত্রাণ নিতে পারছেন না। এ রকম অসংখ্য সমস্যায় সম্মুখীন হয় সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ভুলের জন্য ইসির কর্মীরাই দায়ী। তাদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সঙ্গে ভোগান্তি তো আছেই। অদক্ষ কর্মী ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য এ ভুলের ছড়াছড়ি। যখন জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় তখন ইসির অদক্ষ কর্মীরা তথ্য সংরক্ষণে যে ভুল করেছেন, তার কারণেই আজকে নাগরিকদের এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাখ লাখ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রে রয়েছে নানা ধরনের ভুল। কারও নিজের নাম, কারও বাবা-মায়ের নাম, কারও ঠিকানা বা কারও জন্মসাল ভুল। আবার দেখা গেছে, কারও বাবার নামের স্থলে স্বামীর নাম ছাপা হয়েছে। ইসি জানায়, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে হাজারখানেক আবেদন জমা পড়ছে। আবেদনগুলো ‘ক’ থেকে ‘ঘ’ পর্যন্ত চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। অনলাইনে আবেদনের পর সেগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফেলার জন্য ১০টি অঞ্চলের ১০ জন উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া আছে। এনআইডি সংশোধনে জনভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি জানিয়েছেন, ভুলে ভরা জাতীয় পরিচয়পত্রের সংখ্যা প্রায় কোটির কাছাকাছি। এসব দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনআইডি নিয়ে ভোগান্তি হচ্ছে—এটা জানেন। কিছু মানুষের জন্য নির্বাচন কমিশনের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, ‘অধিকাংশেরই ত্রুটি বয়স বা নাম সংশোধনজনিত। স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিতে পারায় অনেকের এনআইডি সংশোধন করা যাচ্ছে না।’ এ বক্তব্য যে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার শামিল এটা বুঝতে কারও কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তারা যে কতটা সতর্ক এটা আমরা জানি। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। এর পর তারা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হয়েছেন, গিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও। সেখানে গিয়ে তারা নানারকম অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। তাই আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে সত্যিই তাদের সতর্ক হওয়া জরুরি। কেননা এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত।

অন্যদিকে এনআইডি সংশোধনে দেশের সাধারণ মানুষ যাতে বিড়ম্বনার শিকার না হন, সেদিক বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। আর এ সংশোধনের প্রক্রিয়া কীভাবে হয়রানিমুক্ত ও সহজ করা যায় এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। আমাদের প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যমান সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com