মেয়র আতিক বহর নিয়ে ১ বছরে দশবার বিদেশে

মেয়র আতিক বহর নিয়ে ১ বছরে দশবার বিদেশে

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট পরিদর্শনে বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এই সফরে মেয়রের সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন আরও ১০ জন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররাও রয়েছেন এ তালিকায়। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হলেও এই সফরে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন বাদে কেউই প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট নন। বেশিরভাগ কর্মকর্তাই ডেপুটেশনে সিটি করপোরেশনে কাজ করছেন। এরপরও ঢাকঢোল পিটিয়ে এমন ভ্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু চীন সফরই নয়, গত এক বছরে অন্তত ১০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম। আর এ ভ্রমণে বিদেশে কাটিয়েছেন প্রায় ৭০ দিন। অর্থাৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন মেয়র। যদিও ভ্রমণের ব্যয়ের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে মেয়র বলছেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এসব ভ্রমণের ব্যয়ভার বহন করে। তবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিরাট বহর নিয়ে এ ধরনের ভ্রমণের বিষয়ে আপত্তি করছেন অনেকেই। তারা বলছেন, বিদেশে যাওয়ায় কর্মস্থলে থাকা হচ্ছে না। যেই সময়টা থাকছেন না, তার একটি মূল্য আছে। এর জন্য যদি তারা বলেন বিদেশ সংস্থা আমাদের টাকা দিয়েছে ভ্রমণের। এরপরও সেই সফর প্রশ্নবিদ্ধ।

মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র ঘেঁটে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসের ১৮ মে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট পরিদর্শনে চীন সফরে গেছেন আতিকুল ইসলাম। থাকবেন ২৫ মে পর্যন্ত। ৮ দিনের এ সফরে মেয়রের সঙ্গে গেছেন তার একান্ত সচিব, কাউন্সিলরসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল। তবে তাদের অনেকেই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। মেয়রের সফরসঙ্গীরা হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শের আলী, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এসএম শরিফ-উল ইসলাম, ডিএনসিসির চিফ এস্টেট অফিসার ড. মোহাম্মদ মাহে আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব বেলাল হোসেন, মেয়রের একান্ত সচিব শাহ মুজাহিদ উদ্দিন, ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এসএম শফিকুর রহমান, ডিএনসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসহাক মিয়া, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন, সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহিদা আক্তার শিলা। এর মধ্যে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এসএম শফিকুর রহমান শুধু করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাকিরা ডেপুটেশন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। দুজন কাউন্সিলরও রয়েছেন এই ভ্রমণ তালিকায়।

জানা যায়, কোরিয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে নগর ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম গত ৯ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল সফর করেন। এ সফরে তার সঙ্গী ছিলেন একান্ত সচিব শাহ মুজাহিদ উদ্দিন। সফরকালে মেয়র জানান, মশা দমনে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের অত্যাধুনিক পদ্ধতি কাজে লাগাতে চায় উত্তর সিটি। মেয়র বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভেকল মাউন্টেন মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে করে (লার্ভিসাইড) মশা দমন সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি। দীর্ঘ ৩০ বছর আগে মশা নিধনে এ পদ্ধতি অনুসরণ শুরু করে সিউলের নগর সরকার। গত এক দশকে মশা নিয়ন্ত্রণে শতভাগ সফল হয়েছেন তারা। আর সেই পদ্ধতিই কাজে লাগাতে চাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে ২০টি আধুনিক ভেকল মাউন্টেন মেশিন আনার কথা জানান ডিএনসিসির মেয়র। তবে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই মশা মারছে সংস্থাটি।

এরপর ৩ এপ্রিল সৌদি আরবে ওমরাহ হজ পালন করতে যান মেয়র আতিক। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, সফরকালে মেয়র বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রায় সপ্তাহখানেক সেখানে অবস্থান করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের ট্রান্সফর্মিং ট্রান্সপোর্টেশনের ২০তম সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি দল ওয়াশিংটন ডিসিতে যায়। ১৩ থেকে ১৮ মার্চ ছয় দিন সে দেশে ছিলেন মেয়র। সফরকালে মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের আয়োজনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও বক্তব্য দেন।

নগর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি, মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে গেল জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র যান মেয়র আতিক। ১৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি ১২ দিনের সফরে ছিলেন মেয়র। এ সফরে প্রতিনিধিদলে ছিলেন ১৯ জন। সেখানে গিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম দেখে ডিএনসিসি মেয়র আতিক জানান, ঢাকা শহরে মশা নিধনে যে প্রক্রিয়ায় কাজ করা হয়, তা ভুল পদ্ধতি। সিটি করপোরেশন এতদিন ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে। তাতে মশা তো ধ্বংস হয়নি, বরং অর্থের অপচয় হয়েছে। যদিও সঠিক পদ্ধতি কী, তাও বলছেন না। মাসের পর মাস পেরোলেও ভুল পদ্ধতিতেই মশা মারা হচ্ছে। এ সফরেও উল্লেখিত কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন অনেকেই মেয়রের সঙ্গী হয়েছিলেন।

৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর চার দিন থাইল্যান্ড সফর করেন মেয়র। ব্যাংককে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে গ্লোবাল ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন সেন্টার লঞ্চ অনুষ্ঠানে ‘প্যারাডাইম শিফট-স্কেলিং দ্য এসডিজি ৬.২ ইমপ্যাক্টস’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

১৪ থেকে ১৮ নভেম্বর পাঁচ দিন মিশর সফর করেন আতিকুল ইসলাম। ১৫ নভেম্বর মিশরের শারম-আল-শেখে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেন্টার আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। ১৬ নভেম্বর শারম-আল-শেখ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এসডিজি ৭ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত ‘বিট দ্য হিট : নেচার ফর কুল সিটিস চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে যোগ দেন। ১৭ নভেম্বর মিশরের শারম আল-শেখে ক্লাইমেট অ্যাকশন জোনে প্যানেল আলোচনায় ছিলেন।

মেয়র আতিকুল ইসলাম গত বছরের ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর সাত দিন আর্জেন্টিনা সফর করেন। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কাজ করায় তাকে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস অ্যাওয়ার্ড-২০২২ প্রদান করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেয়রদের নিয়ে গঠিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম সি-৪০ সিটিস। সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জানান, ঢাকা শহরে রোড সেফটির জন্য প্রয়োজনীয় রিসার্চ করে একটি মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। এর জন্য যত খরচ হবে, সব ডাটা সফটওয়্যার সংস্থা ব্লুমবার্গ দেবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।

ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেদারল্যান্ডস সফরে যান মেয়র আতিকুল। সে সফরে তিনি ছিলেন চার দিন।

মাইগ্রেশন কাউন্সিল এবং বিশ্বব্যাংকের আমন্ত্রণে গত ১৫-২৬ মে পর্যন্ত ১২ দিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন আতিকুল ইসলাম। তিনি এমএমসি লিডারশিপ বোর্ড মিটিং, ডিজাস্টার ডিসপ্লেসমেন্ট, জেনারেল অ্যাসেমব্লি মিটিংসহ ইত্যাদি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সফরকালে নিউইয়র্ক শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, স্ট্রিট পার্কিং, বাস টার্মিনাল, পাইকারি বাজারের সরবরাহ পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসি শহরের মেট্রোপলিটন সিটির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আরবান প্ল্যানিং, রাজস্ব আদায়, ক্রয় কাজের কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের একটা ঘোষণা দিয়েছে। বিদেশ যাওয়া, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যাই হোক—এটি আমাদের দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সেখানে প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক যারা বিদেশে যাচ্ছে, সেটি সরকারি বা বিদেশি অর্থায়নে হোক—যারা যাচ্ছেন, যে উদ্দেশে যাচ্ছেন, তাদের কর্মপরিধি কতটুকু সামঞ্জস্য আছে, সেটির যথার্থতা যাচাই হয় না বলেই আমাদের ধারণা। তালিকার দিকে তাকালে এমন ব্যক্তিদের নাম দেখা যায়, তারা যে উদ্দেশে বিদেশ গেছেন তার সঙ্গে সংযুক্ত নন, যে কারণে যেটুকু অভিজ্ঞতা অর্জন করেনও, সেটি দেশে ফিরে এসে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ থাকে না, এমনকি কোনো দায়দায়িত্বও থাকে না। এ নিয়ে জবাবদিহিতারও কোনো সুযোগ নেই।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এ ধরনের সফরে যে অবিচার হচ্ছে, শুধু সেটি টাকায় হিসাব করা যাবে না। টাকা তো একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের যে কর্মঘণ্টা, বিদেশে যাওয়ায় তারা কর্মস্থলে থাকছেন না। যে সময়টা থাকছেন না, তার একটি মূল্য আছে। এর জন্য যদি তারা বলে বিদেশি সংস্থা আমাদের টাকা দেয়, এরপরও এ ধরনের সফর প্রশ্নবিদ্ধ।

উচ্চতর পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। একদিক থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করছেন, সমাজকে একটা ভুল বার্তা দিচ্ছেন। তারা অর্থ অপচয় করছেন বলে মত দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, যেসব কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি বিদেশ সফরে যান, তাদের কর্মঘণ্টার বড় মূল্য রয়েছে। তাদের সেবা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। বর্তমানে পৃথিবীতে যে কোনো দেশে বসেই বাইরের দেশের প্রযুক্তি, সরঞ্জামাদি দেখা সম্ভব। নানা কারণ দেখিয়ে অনেকে বিদেশে যাচ্ছেন, তার বেশিরভাগই অপ্রাসঙ্গিক। এসব সফর রাষ্ট্রের ওপর বোঝা বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বিদেশ সফর এত প্রয়োজনীয় নয়। ২০ বছর আগে বিদেশ সফরের যে প্রয়োজনীয়তা ছিল, বর্তমানে সেই অর্থে প্রয়োজনীয় নয়। যেসব দেশে সফর যাচ্ছেন, তাদের আর্থ-সামাজিক পরিকল্পনা ও বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের দেশের সঙ্গে অনেক ভিন্নতা রয়েছে। অনেক সফরই আমাদের জন্য খুব বেশি কল্যাণ বয়ে আনে না। দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বড় বড় টিম করে বড় বড় সফর আদৌ প্রয়োজনীয় কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। যদি যেতেই হয় সংশ্লিষ্ট দু-একজন গেলে ভালো হয়।

আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেখতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যারা বিদেশ সফরে গেছেন তাদের অনেকেই এই কারিগরি বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ফলে এসব কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বিদেশ সফর রাষ্ট্রের তেমন কাজে আসবে না। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের এই ভ্রমণে সম্পৃক্ত করা গেলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো সংবেদনশীল প্রকল্পের ব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হতো। অন্যথায় অন্য অনেক অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরের তালিকার মধ্যে এই সফরও যুক্ত হবে, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় এবং কথা বলতে চাওয়ার কারণ জানিয়ে এসএমএস দিলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে সম্প্রতি মেয়র আতিক বিভিন্ন সময়ে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের টাকায় আমরা কোনো সময় বিদেশ ভ্রমণ করি না। আবার আসার সময় খালি হাতেও ফিরি না। শুধু শুধু ঘুরতেও যাই না। তিনি বলেন, তারাই (যে দেশে যান, ওই দেশের সরকার, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান) নিমন্ত্রণ, বিমান টিকিট ও হোটেল ভাড়া দিয়ে নিয়ে যান। বিশ্বব্যাংকও তা-ই করেছিল। বরং ফেরার সময় তারা আমাদের ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com