মডেল ভোটে মেয়র জাহাঙ্গীরের মা

বৃহস্পতিবার ভোট দেওয়ার পর ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। সঙ্গে ছিলেন সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।
বৃহস্পতিবার ভোট দেওয়ার পর ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। সঙ্গে ছিলেন সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: কালবেলা

শঙ্কা কাটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনে অবিস্মরণীয়, অনিন্দ্য এক বিজয়ের সাক্ষী হলেন গাজীপুরের মানুষ। উৎসবমুখর পরিবেশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটের মাধ্যমে তারা বেছে নিলেন আগামী দিনের নগর অধিপতিকে।

দলীয় পদ থেকে হয়েছিলেন বহিষ্কৃত, হারিয়েছিলেন নগরপিতার গদিও। বাতিল হয়েছে নিজের মেয়র পদের প্রার্থিতা। এরপরও সাধারণ মানুষের ওপর ভর করে নিজের মাকে প্রার্থী করে নেমেছিলেন ভোটযুদ্ধে। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে সেই যুদ্ধে সফলভাবেই যেন উতরে গেলেন গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তার একক ক্যারিশমায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মা জায়েদা খাতুন জয়লাভ করেছেন বিপুল ব্যবধানে। এ নির্বাচনে জায়েদা খাতুনের পাশাপাশি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনও যেন জয়লাভ করল। কোনোরকম সহিংসতা এবং কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই মডেল নির্বাচনের নজির গড়ল তারা।

নির্বাচনে জায়েদা খাতুনকে মানুষ যেন দুহাত উজাড় করে ভোট দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশনে মেয়রের কুর্সিতে বসবেন তিনি। রাজনীতির মারপ্যাঁচে অনভ্যস্ত জায়েদা খাতুন বাড়ির চৌকাঠ পেরোননি কোনোদিন। ছেলে রাজনীতিবিদ হলেও নিজে সবসময় এড়িয়ে চলেছেন সভা-সমাবেশ। সেই জায়েদা খাতুনই যেন নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মন জয় করে নিলেন গাজীপুরের মানুষের। গৃহিণী হিসেবে ঘর সামলানো স্বল্পভাষী মানুষটি এখন সামলাবেন গাজীপুরের পঁয়ষট্টি লাখ মানুষের অভাব-অভিযোগ। দায়িত্ব নেবেন অগোছালো গাজীপুরকে মডেল সিটি গড়ার।

তবে এ নির্বাচনে জায়েদা খাতুনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভোটের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারালেন মার্জিত এবং বিনয়ী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা। মানুষের ভাষ্য, তুলনামূলক মার্জিত হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব ছিল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর। গাজীপুর মহানগরের মতো শিল্প এলাকার সরকারি দলের শীর্ষ নেতা হলেও তিনি মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও সাধারণ মানুষের কাছে হতে পারেননি আস্থার প্রতীক। নির্বাচনের প্রচারেও ছিল গাফিলতি। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে ঢিলেমি ছিল প্রচারণায়। বড় বড় শোডাউন এবং রোড শো করলেও মানুষের দ্বারে দ্বারে যাননি। যার ফলও পেলেন হাতেনাতে। সরকারি দলের প্রার্থী হওয়ার পরও হারলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে।

তবে এর ঠিক উল্টোপথে হেঁটেছিলেন জায়েদা খাতুন। ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। বড় সভা-সমাবেশ এড়িয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছেছিলেন জায়েদা। দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরে রাজনীতি করা এবং মেয়রের পদে থাকায় আলাদা একটা বলয়ও ছিল জাহাঙ্গীর আলমের। দল থেকে বহিষ্কারের ভয়ে অনেকেই সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও ভোটের মাঠে কাজ করেছেন জায়েদা খাতুনের জন্যও। সরেজমিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরেও দেখা গেছে এর প্রমাণ। অনেকেই নৌকার ব্যাজ লাগিয়ে ভোট চেয়েছেন জায়েদা খাতুনের টেবিল ঘড়ির জন্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করেন গাজীপুর সিটির নির্বাচনে। নানা শঙ্কা থাকলেও নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শক্ত অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। পাশাপাশি কঠোর ছিল নির্বাচন কমিশনও। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে গাজীপুর ছিল অ্যাসিড টেস্ট। সরকারের কাছেও চ্যালেঞ্জ ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন করা। তবে নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রায় সব প্রার্থীই।

নির্বাচন কমিশনের ৪৮০ কেন্দ্রের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন পেয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমত উল্লা খান পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ ভোট। মাছ প্রতীকে আতিকুল ইসলাম ১৬ হাজার ৯৭৪, লাঙ্গল প্রতীকে এম এম নিয়াজ উদ্দিন ১৬ হাজার ৩৬২, হাতপাখা প্রতীকে গাজী আতাউর রহমান ৪৫ হাজার ৩৫২, গোলাপ ফুল প্রতীকে মো. রাজু আহাম্মেদ ৭ হাজার ২০৬, ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রাশিদ ২ হাজার ৪২৬ এবং হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম ২৩ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে গাজীপুর জেলা পরিষদ ভবনের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে এ নির্বাচনের ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।

তবে সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা খানিকটা বিলম্ব হয়। ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও কেন সব কেন্দ্রের ফল দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক যে রেজাল্ট পেয়েছি, তাতে আমার মা জায়েদা খাতুন জয়লাভ করেছেন। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাচ্ছি, কেন আমাদের প্রিন্টিংসহ ফল দিচ্ছেন না। মেশিনে ফল, সে হিসেবে এটি তো সন্ধ্যায় দেওয়ার কথা। বিকেল ৪টায় ভোট শেষ হলেও কেন এখনো ফল দেওয়া হচ্ছে না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের অস্থায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৪৮০টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে চলে ভোট গ্রহণ। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। সহিংসতার কোনো খবর না পাওয়া গেলেও কিছু কিছু জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলা, এক বুথের ভোটারদের অন্য বুথে যাওয়া নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ আসে। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ইভিএমের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররা। ইভিএম ত্রুটিতে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয় দেরিতে। ঢাকা থেকে পুরো নির্বাচন সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশন। ভোটে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগে কমিশনের নির্দেশে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে একজনকে তিন দিনের জেল দেওয়া হয়। পুরো নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, এ ভোটে প্রার্থী এবং ভোটার সবাই সন্তুষ্ট। সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করায় তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সকাল ১০টার পর কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জায়েদা খাতুন। এ সময় তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমও ভোট দেন। ভোট দিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জায়েদা খাতুন বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তার এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, সকাল পৌনে ৯টার দিকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে টঙ্গীর আরিচপুর মসজিদ রোডের দারুস সালাম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লা খান। এ সময় তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে মানুষ ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়েছে। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আজ জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, আমি সেটি অবশ্যই মেনে নেব।

সরেজমিন বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সরব ভোটার উপস্থিতি ছিল গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। ভোট শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়ান ভোটাররা। আর ভোটারদের লাইন শেষ না হওয়ায় অনেক কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার পরও ভোট গ্রহণ করতে দেখা যায়। এ নির্বাচনে ৪৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, বহুল আলোচিত এ সিটির এবারের নির্বাচনে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন টেবিল ঘড়ির সমর্থকরা। সিটির বেশিরভাগ কেন্দ্রেই টেবিল ঘড়ির এজেন্টদের দেখা মেলেনি। এ প্রতীকের তেমন কোনো পোস্টারও চোখে পড়েনি কোথাও। সব জায়গায় নৌকার সরব উপস্থিতি এবং কোথাও কোথাও ভোট চলাকালীন কেন্দ্রের সামনে আজমত উল্লা খানের সমর্থকদের মিছিলও করতে দেখা যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে নৌকার ব্যাজ পরা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বুথে প্রবেশ করে ভোটারদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকিও দেন। ‘নৌকার বাইরে ভোট দিলে খবর আছে’ বলে ভোটারদের শাসিয়ে যান তারা। এ সময় একটি কেন্দ্রে নারী ভোটারের ইভিএম বাটন টিপে নৌকায় ভোট দিয়ে দেন বলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন ভোটার। এ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি-ধমকি থেকে বাদ পড়েননি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাও। পরে তিনি ওপরের হস্তক্ষেপ কামনা করলে পুলিশ এসে নৌকার ওই সমর্থকদের সরিয়ে দেন। এ ছাড়া বেশিরভাগ কেন্দ্রেই নৌকা ছাড়া টেবিল ঘড়ির কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। তবে কোথাও কোথাও লাঙ্গল ও হাতপাখার এজেন্টদের দেখা যায়। অবশেষে প্রকাশ্যে নৌকার সরব উপস্থিতির মধ্যেও টেবিল ঘড়ির প্রতি নীরব সমর্থন দিয়ে জায়েদা খাতুনের জয় নিশ্চিত করেন ভোটাররা।

এ নির্বাচনে ৩৩৩ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৯ জন প্রার্থী। এ ছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের এই নগরে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৭, নারী ভোটার ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ১৮ জন।

কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা : গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়। সরব উপস্থিতি ছিল দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীদের। ঘুড়ি প্রতীকের আবু সাইদ মণ্ডল ও ঠেলাগাড়ি প্রতীকের মোখলেস উদ্দিন চৌধুরীর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে উপস্থিতি জানান দেন। এ ছাড়া ছিলেন আজমত উল্লা খান ও হাতপাখা মার্কার প্রার্থী গাজী আতাউর রহমানের নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বারবার তাদের নিবৃত করার জন্য সরিয়ে দিলেও ফের আসেন তারা। তৈরি হয় উত্তেজনা। অনেক ভোটার ভোট দিতে এসেও আশপাশে অপেক্ষা করেন। একই চিত্র দেখা যায় টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি কেন্দ্রের বাইরেও। এ কেন্দ্রে মাকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চিৎকার, চেঁচামেচি শুনে একটু দূরে আছি। শান্ত হলে কেন্দ্রে যাব। কারণ, মা অসুস্থ, কখন কী পরিস্থিতি হয়।’ এ ছাড়া শালনার আরও কয়েকটি কেন্দ্রেও একই চিত্র চোখে পড়ে।

টঙ্গী ও শালনায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি: বৃহস্পতিবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল থেকেই কেন্দ্রে নারী ভোটারের আলাদা লাইন তৈরি হয়। আর যেসব কেন্দ্র শুধু নারীদের জন্য, সেখানেও ভোটার উপস্থিতি বেশি ছিল। টঙ্গীর ১৫টি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের লাইন ছিল দীর্ঘ। তবে ইভিএম সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নারী ভোটারদের ভোট গ্রহণে একটু সমস্যায় পড়তে হয় কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের।

টঙ্গীর রেনেসাঁ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতন নারী ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শাখাওয়াত হোসেন জানান, এই কেন্দ্রে নারী ভোটার ২ হাজার ১৬ জন। নারী ভোটাররা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক।

অন্যদিকে, গোপালপুর কিশোর বিদ্যানিকেতনে পুরুষ ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, আমার কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৬২৭। নারীরা সকালে ভোট দিলেও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি একটু কম ছিল।

টঙ্গীর মধুমিতা এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা খালেদা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, ভোটের দিন সকালে ভোটের আমেজ থাকে। তাই সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছি। দুপুরে পারিবারিক কাজের ঝামেলা থাকে। ইভিএমে সহজেই ভোট দিতে পেরে আমি খুশি। এ ছাড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী ভোটারদের কেন্দ্রে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের ইভিএম সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও ভোট দিয়ে একরকম খুশি তারা।

৪ হাজার ৪৩৫ সিসি ক্যামেরায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ইসির সন্তোষ : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৪ হাজার ৪৩৫টি সিসিটিভি স্থাপন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সিসিটিভির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বসেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১৮টি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে একই সঙ্গে ৪৬৬টি সিসি ক্যামেরায় ৪৬৬টি ভোটকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতি ডিসপ্লে ১০ সেকেন্ড পরপর অটো রোটেড করে এভাবে ৪ হাজার ৪৩৫টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইসি। সিসিটিভিতে দুই জায়গায় অনিয়ম দেখেছে কমিশন এবং নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা দুজনকে ইসির নির্দেশে আটক করা হয়।

ভোট গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটিতে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা সবাই বলেছেন নির্বাচন ব্যবস্থায় তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। নির্ধারিত সময়ের পরও ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী আইনে আছে যে নির্বাচনে শেষ সময় পর্যন্ত যদি ভোটার উপস্থিতি থাকে, তাহলে ভোটারের ভোট না নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ব্যালটের ক্ষেত্রে যেই নিয়ম, ইভিএমের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশি রাষ্ট্র নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। রাষ্ট্র বুঝবে। এটি নির্বাচন কমিশনের কিছু না।

এদিকে মায়ের বিজয়ের পর জাহাঙ্গীর আলম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই বিজয় কেবল তার নয়, নগরবাসীর। গাজীপুরে নৌকা নয়, ব্যক্তির পরাজয় হয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে চাই। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন আমার বাঁচা-মরার নির্বাচন ছিল। আমার মা আমাকে বলেছিলেন, এই শহরের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। তোমার ওপর অত্যাচার হয়েছে। আমি মা হিসেবে বসে থাকতে পারব না। আমি নির্বাচন করতে চাই।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com