পুরোনো ইভিএমে এবার ইসির দৃষ্টি

পুরোনো ইভিএমে এবার ইসির দৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

বহুল আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মেগা প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ায় এবার পুরোনো ইভিএমে মনোযোগ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে নেওয়া দেড় লাখ ইভিএমের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে ইসি সচিবালয় থেকে। এর মধ্যে কতগুলো ইভিএম নষ্ট, কতগুলো মেরামতযোগ্য এবং কতগুলো সচল রয়েছে, তা পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। এসব ইভিএমে সর্বোচ্চ কত আসনে নির্বাচন করা সম্ভব হবে, সেই সংখ্যা নিরূপণে কাজ শুরু হয়েছে ইসিতে। বাকি আসনগুলোতে ব্যালটে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে বহুল আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুনেই শেষ হচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় পুরোনো প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর চিন্তা করছে ইসি। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইভিএম সংরক্ষণের লক্ষ্যে র‌্যাক কেনার ক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন, অর্থনৈতিক কোড সংযোজন ও বিয়োজন এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদনে প্রকল্প ব্যয় ৭৫ কোটি বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে ইসি। তবে প্রকল্প ব্যয় না বাড়িয়ে ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিপিপি) প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ভুক্ত নির্বাচন কমিশনের প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে পুরোনো ইভিএম ইসি থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রস্তাব আবার ফেরত নেওয়া হয়েছে। আরেকটু সংশোধন ও পরিমার্জন করে করে তা আবার পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, পুরোনো ইভিএম প্রকল্পের আন্তঃব্যয় খাত সমন্বয় নিয়ে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সেটি আবার ফেরত নিয়ে গেছে ইসি। হয়তো আরেকটি পরিমার্জন করে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে দেড় লাখ ইভিএম কিনতে ২০১৮ সালে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। চলতি বছরের জুনে ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হলেও মাত্র ছয়টি আসনে এ যন্ত্রে ভোট নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত সংসদ উপনির্বাচনসহ স্থানীয় ১ হাজার ১৪৩টি নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কমিশনের সংগ্রহে আগের প্রকল্পের দেড় লাখ ইভিএম রয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ইসি সচিবালয়ে, ৯০ হাজার মাঠপর্যায়ে এবং ৫০ হাজার ইভিএম ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠান বিএমটিএফে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে থাকা ৫০ হাজারের মতো ইভিএম সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে কমবেশি নষ্ট হয়েছে। সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওইসব ইভিএমে ৩০ থেকে ৫০-এর কমবেশি আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। এ ছাড়া বাকি আসনে ব্যালটে ভোট নিতে প্রস্তুত হচ্ছে ইসি। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে থাকা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময় কমবেশি তিন লাখ বাক্স ব্যবহার উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যা দিয়ে ৩০০ আসনেই ভোট গ্রহণ সম্ভব। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন আসনে কী প্রক্রিয়ায় ভোট নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী মাসে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।

সূত্র জানায়, নির্বাচন ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের লক্ষ্যে আগের ইভিএম ব্যবহার প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের পুঞ্জীভূত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬১৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এটি মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৯৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯৩ শতাংশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় ইভিএম ব্যবহার প্রকল্পের পরিচালক জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় ইভিএম সংরক্ষণের লক্ষ্যে কেনার জন্য ক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন, অর্থনৈতিক কোড সংযোজন ও বিয়োজন এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদনে প্রকল্প ব্যয় ৭৫ কোটি বাড়ানোসহ প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো প্রয়োজন। এরই মধ্যে নতুন প্রকল্প হিসেবে ইভিএম প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নপূর্বক অনুমোদনের জন্য তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেটি আবার ফেরতও নেওয়া হয়েছে। নতুন করে যে কোনো সময় প্রস্তাব আবার পাঠানো হতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসির ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে থাকা ইভিএম যাচাই করা হচ্ছে। এখনো সব যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে কয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কমিশন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সেভাবে বাস্তবায়ন করব।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, হাতে থাকা ইভিএমের মধ্যে কতগুলো আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কী পরিমাণ ব্যালট বাক্স আছে সে ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কতগুলো আসনে ব্যালটে আর কতগুলো আসনে ইভিএমে ভোট হবে, সে বিষয়ে আগামী মাসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com