আসলে হানাদারই, তবে নতুন নামে

অলংকরন : আবু হাসান
অলংকরন : আবু হাসান

একাত্তরের যুদ্ধ সশস্ত্র ছিল। অস্ত্র হাতে মানুষ লড়েছে। কিন্তু তার আসল চরিত্র ছিল আদর্শিক; দুটি আদর্শ পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। একটি আদর্শ লুণ্ঠনের, অন্যটি লুণ্ঠনকে প্রতিহত করে সর্বজনীন মুক্তি-অর্জনের। ওই যুদ্ধ হঠাৎ শুরু হয়নি। বিশেষ কোনো দিনে কিংবা ঘটনার মধ্য দিয়ে তার সূত্রপাত ঘটেনি। একটি নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে, আছে ধারাবাহিকতা। পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, আছে তেভাগা আন্দোলন, তারও আগের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনও। ধারাবাহিকভাবে এগোতে এগোতে একটি পর্যায়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটেছে একাত্তরে।

বিস্ফোরণ অনেক বড় ছিল। নেতৃত্বের তুলনায়। নেতৃত্ব তাই সঠিক পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেনি। পেছনের লোক এগিয়ে গেছে, সম্মুখবর্তীদের পেছনে ফেলে। একাত্তরের ঐক্যটা জনগণের ঐক্য, নেতৃত্বের ঐক্য নয়। রণাঙ্গনে সাধারণ মানুষ ছিল, যাদের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না যুদ্ধের। নেতৃত্বের ভেতর কোন্দল দেখা গেছে, ষড়যন্ত্র যে অনুপস্থিত ছিল তাও নয়। মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি মুজিববাহিনী গড়ে উঠেছে, মুক্তিবাহিনীতে বামপন্থিদের নেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বামপন্থিরা নিজেরাও ছিল বিভ্রান্ত। তবু সব মিলিয়ে, এর মূল স্রোতটা ছিল আদর্শবাদী। ওই আদর্শবাদ পুরাতন আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ভেঙে তার জায়গায় ছোট কিন্তু অনুরূপ অন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়নি, স্বপ্ন দেখেছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের, যেখানে মানুষ মুক্তি পাবে এবং মুক্তির জন্য অত্যাবশ্যকীয় যে বৈষম্যহীন সমাজ তা গড়ে উঠবে। এ ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের নয়। নেতৃত্ব চেয়েছে পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত আসনগুলোতে তারা আরাম করে বসবে, একদিন যখন ব্রিটিশের পরিত্যক্ত গদিগুলোতে তাদের পূর্বসূরিরা বসেছিল। নেতৃত্বের আদর্শবাদ ব্যক্তিস্বার্থের; জনগণের আদর্শবাদ সমষ্টি স্বার্থের। দুটোই এগোচ্ছিল নিজ নিজ ধারাবাহিকতায়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ব্যক্তিস্বার্থই জয়যুক্ত হয়েছে, সমষ্টি স্বার্থকে পদদলিত করে।

অলংকরন : আবু হাসান
মুক্তিযুদ্ধের সুহৃদ

মস্ত বড় জয়ের পর এটা একটা মস্ত বড় পরাজয়। দুটোই ঐতিহাসিক। হানাদাররা পরাভূত হলো, তারা তাদের হাতের অস্ত্র সমর্পণ করল, কিন্তু তাদের আদর্শ অপরাজেয় রয়ে গেল। বিজয়ী বীরেরা ওই আদর্শকেই নিজেদের মধ্যে মহোৎসাহে ও প্রায় অবাধে বিকশিত করতে থাকল। সাধারণ মানুষ দেখল তারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছে, বিদেশি হানাদারদের তারা বিতাড়িত করেছে ঠিকই, কিন্তু স্বদেশি লুণ্ঠনকারীদের কবলে পড়ে গেছে। লুণ্ঠনই আদর্শ হয়ে দাঁড়াল।

ফলে মানুষ দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তাহীন হয়ে দাঁড়াল। বিদেশি হানাদারদের বিরুদ্ধে যে সমষ্টিগত লড়াইটা ছিল, সেটি এখন আর নেই। এখনকার যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যক্তিগত। পাকিস্তানি বাহিনী চলে গেছে, কিন্তু তাদের প্রেতাত্মারা বসে থাকেনি। তারপর অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে যিনি প্রধান তিনি সপরিবারে নিহত হলেন এবং তারপর একের পর এক সামরিক বাহিনীর লোকদের অধীনে চলে গেল বাংলাদেশ। ক্রমাগত বৈষম্য বাড়তে থাকল এবং কমতে থাকল দেশপ্রেম। নিঃশব্দে টাকার শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো। আর টাকা চলে গেল লুণ্ঠনকারী ও ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনৈতিক এবং বিদেশি কোম্পানি ও সংস্থার স্থানীয় এজেন্টদের হাতে। কমতে থাকল নিরাপত্তা। বিশেষভাবে বিপদ ঘটল সমাজের দুর্বল অংশের, যেমন দারিদ্র্যের, নারীর, সংখ্যালঘুর এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তার।

যুদ্ধের সময় মানুষ ব্যস্ত ছিল কাজে। যুদ্ধ নিজেই একটা সার্বক্ষণিক কাজ। কাজ চলছিল রণাঙ্গনে, চলছিল কৃষিতে। আর আশা ছিল যে, দেশ স্বাধীন হলে কর্মের বিপুল সুযোগ তৈরি হবে। মানুষ বেকার থাকবে না। শিল্পায়ন ঘটবে। উৎপাদন বাড়বে। উৎপাদকরা মর্যাদাবান হবে। সেই আশা পূরণ হয়নি। বিনিয়োগ ঘটেনি। যারা উৎপাদন করে তারা দরিদ্র হয়েছে। অপচয় মাত্রাহীন হয়ে পড়েছে। সর্বোপরি রাষ্ট্রক্ষমতা চলে গেছে তাদের হাতে যারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়। কর্মের ক্ষেত্রকে প্রসারিত না করে বরং সংকুচিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ সমষ্টিগত মুক্তির যে লক্ষ্যকে সামনে তুলে ধরেছিল সেটা আলস্যের নয়, কাজের, সেটা ব্যক্তিগত লুণ্ঠনের নয়, সমষ্টিগত সৃষ্টির। সেই আদর্শ জয়যুক্ত হয়েছে এমনটা বলা যাবে না, যদিও আমরা বলি ভালোবাসি বলতে, যে মুক্তিযুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি। সর্বত্র চলছে ব্যক্তিস্বার্থের জয়-জয়কার। সামাজিক সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাচ্ছে। নদী, বিল, খাল, হাওর, পার্ক—সব লুণ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কলকারখানা প্রথমে দলীয় লোকদের দখলে চলে গিয়েছিল, পরে অসুস্থ অবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানায় নামমাত্র দামে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ওই নতুন মালিকরা কারখানা চালায়নি, কারখানার জমি, ঘরবাড়ি, যন্ত্রপাতি সব বেচে দিয়েছে কিংবা অন্য কাজে লাগিয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে কী, আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে। লুটপাটকারীরা নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করছে, ইতর প্রাণীদের মতো থেকে থেকে ধ্বনি তুলছে, নানাবিধ। এ দুর্বৃত্তের কাছ থেকে তাদের অনুসরণকারীরা যা শিখেছে তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা লক্ষ্যের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। একাত্তরে এদের কেউ কেউ যে যুদ্ধে গিয়েছিল এটা সত্য, কিন্তু যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল বলেই যে মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হয়েছিল তা নয়; পরবর্তী সময়ে এদের কারও কারও অবস্থান হানাদারদের কাণ্ডকারখানা থেকে পরিমাণগতভাবে দূরবর্তী হয়তো ছিল, কিন্তু গুণগত মানে অনেক দূরের ছিল না। এখনো নেই। মুক্তিযুদ্ধে ব্যক্তিগত মুনাফার প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে না; কিন্তু যুদ্ধের পর দেখা যাচ্ছে অবিকল তা-ই ঘটেছে, ব্যক্তি নিজেকে শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, সর্বপ্রধান করে তুলেছে, সমষ্টিকে যতটা পারা যায় লাঞ্ছিত করে। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি যুদ্ধের ওপর বই লিখেছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন, পড়লে মনে হয় যুদ্ধটা ছিল তারই যুদ্ধ, ব্যক্তিগত; এবং যুদ্ধটা প্রমাণ করেছে তার মধ্যে কতটা মহত্ত্ব, বীরত্ব ছিল। প্রচণ্ড মুনাফা লোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তুমুল ভোগস্পৃহা। ভোগের এক অত্যাশ্চর্য প্লাবন বয়ে চলেছে দুর্দশাগ্রস্ত এ দেশের ওপর দিয়ে। সেখানেও প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা একের সঙ্গে অন্য সকলের।

এ পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধূসর হতে বাধ্য। স্মৃতি বিশেষভাবে তারাই মনে রাখছে যারা এ নিয়ে ব্যবসা করতে পারে। আর মনে রাখতে বাধ্য হচ্ছে তারা যারা আপনজনকে হারিয়েছে। যারা লাঞ্ছিত হয়েছে নানাভাবে। এদের মধ্যে সম্পন্ন মানুষরাও আছে, আছে বলেই তবু থেকে থেকে যুদ্ধের উল্লেখ ঘটে, শুধু সাধারণ মানুষের দুঃখের ব্যাপার হলে চাপা পড়ে যেত বিস্মৃতির আরও অনেক গভীরে।

মুক্তিযুদ্ধের ভেতরকার অঙ্গীকারটা তো অবশ্যই ছিল সমষ্টিগতভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। এ যুদ্ধ তো অন্যে লড়ে দেবে না, নিজেকেই লড়তে হয়, নিজের ওপর নির্ভর করে। অন্যরা সাহায্য করবে, অবশ্যই; কিন্তু তাদের ওপর ভর করে লড়াই করা যাবে এ রকমের আশ্চর্য কথা কেউ কখনো শুনেছে বলে মনে হয় না। অন্যে এসে যদি মুক্ত করে দেয় তবে তার অর্থ তো স্বাধীনতা হতে পারে না, পরাধীনতাই হওয়ার কথা। আমাদের যুদ্ধে যে মধ্যবিত্ত শ্রেণি নেতৃত্ব দিয়েছে তার ভিত্তিটাই ছিল পরাশ্রয়ী; স্বাধীনভাবে গড়ে ওঠেনি, অন্যকে জড়িয়ে ধরে কোনোমতে বিকশিত হয়েছে। সে প্রভু বদল করতে পারে, কিন্তু স্বাধীন হতে ভয় পায়। একাত্তরের যুদ্ধে তাই আমরা, নেতৃত্বদানকারী মধ্যবিত্তরা, কান পেতে থেকেছি কোথায় কার সমর্থন পাওয়া গেল সেটা শোনার জন্য। অনুমোদনের সামান্য শব্দ শোনামাত্র উৎফুল্ল হয়েছি, যেমন মুহ্যমান হয়েছি বিরোধিতার ধ্বনি কানে এলে। ভারত কেন স্বীকৃতি দিচ্ছে না, এ ছিল সার্বক্ষণিক গুনগুন; ভারতীয় বাহিনী কেন ত্বরায় প্রবেশ করছে না সীমান্ত পার হয়ে, এ নিয়ে শুধু জিজ্ঞাসা ছিল না, ছিল গভীর উদ্বেগ। পাকিস্তান খুশি হতো যুদ্ধটাকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারলে; প্রকারান্তরে আমরাও কেন তেমনটা চাইছিলাম। শ্রেণিগতভাবে মধ্যবিত্তের আস্থা ছিল না যে, সুনিশ্চিত ও সুসজ্জিত একটি দুর্ধর্ষ বাহিনীকে ভীরু বাঙালি পর্যুদস্ত করতে পারবে। নিজের পরাশ্রয়প্রবণতার কারণেই ওই অবস্থাটা তৈরি হয়নি। কঠিন ছিল তৈরি হওয়া। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিরা যখন আত্মসমর্পণ করল তখন তারা ভারতীয় সেনাপতির কাছেই মাথা ও গোঁফ নামাল, আমাদের সেনাপ্রধানের পক্ষে সেখানে উপস্থিত থাকা সম্ভব হলো না। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক বটে, কিন্তু এর মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য মোটেই ছোট নয়। বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের পক্ষে যতটা বড় হওয়ার কথা ছিল, ততটা বড় আমরা হতে পারলাম না।

তবু আত্মমর্যাদা বেড়েছিল বৈকি। আমরা জিতেছি, আমাদের ভূমিতেই হানাদাররা আত্মসমর্পণ করেছে। প্রবাসী সরকার দেশে ফিরে এসেছে, এসে দেশ শাসনের দায়িত্বভার নিয়েছে। নতুন সংবিধান তৈরি হলো। বিশ্ব আমাদের দেখল, খুশি হলো। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হলো, বাংলাদেশের পতাকা দেশে-বিদেশে উড্ডীন হতে দেখলাম। আমরা বললাম আমরা একটি গর্বিত জাতি।

কিন্তু তারপর? তারপরের ইতিহাস তো ক্রমাগত পিছু হটার। আদর্শবাদ চলে গেছে, যার কথা উল্লেখ করেছি। ওই আদর্শবাদের অন্তর্ধানের ফলে মুক্তিযুদ্ধ অনেকের চোখেই নিছক ‘গোলমাল’ ভিন্ন বড় কিছু নয়; তাদের দৃষ্টিতে একাত্তরে একটা গোলমাল বেধেছিল, আমরা কষ্টে পড়েছিলাম, কপাল ভালো, সেটা চলে গেছে, এখন মোটামুটি ভালোই আছি যতটা থাকা যায়। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শবাদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আকাঙ্ক্ষাটাও। পাকিস্তানিদের হটিয়ে দিয়ে আমরা অন্য কাউকে ডেকে আনব এমন কোনো কথা ছিল না, থাকলে ওই যুদ্ধ মুক্তির যুদ্ধ বলে কিছুতেই দাবি করতে পারব না। কিন্তু দেখা গেল ডাকাডাকি ঠিকই শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয়রা তো আসবেই, তারা আমাদের ঘনিষ্ঠতম মিত্র। কিন্তু পাকিস্তানিরাও চলে এলো। আমরাই ডেকে আনলাম। ভুট্টো এসে ঢাকা ঘুরে গেল, সসম্মানে। পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলো না, পাকিস্তান ক্ষমা চাইল না, আটকেপড়া পাকিস্তানিদের তারা ফিরিয়েও নিল না।

ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আমরা ছুটলাম দ্বারে দ্বারে। দান, অনুদান, ঋণ আসতে শুরু করল। যত এলো ততই আমরা গত হলাম। কিন্তু স্ফীত হলো শাসকশ্রেণি। এখন ঋণ নিতে নিতে এমন দশা হয়েছে, দেশের যে ঋণ ছাড়া আমরা চলতে পারব এটা কল্পনা করাও কঠিন মনে হয়। দেশের যারা শাসক তারা আসলে ভক্ষক, যদিও তাদের ছদ্মবেশটা রক্ষকের। এরা দেশকে বন্ধক রাখতে চায় পুঁজিবাদী বিশ্বের কাছে, জনগণের মঙ্গল হবে বলে নয়, নিজেদের পকেট ভারী হবে, এই আশায়। দারিদ্র্য বিক্রি শেষ হয়েছে। এখন লুকানো সম্পদ যা আছে তা বিক্রির তাল তুলেছে। এরা এমনই আপসবিহীন জাতীয়তাবাদী। আসলে হানাদারই, তবে নতুন নামে।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com