দুই হাতে দুই মহাদেশ

দুই হাতে দুই মহাদেশ

সীমানা এলাকায় গিয়ে একসঙ্গে দুই দেশে দুই পা রাখাই যায়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই দুটো মহাদেশ যেখানে আলাদা হয়ে গেছে, সেখানে একসঙ্গে দুটো মহাদেশ স্পর্শ করতে পারাটা বিরল অভিজ্ঞতা বটে। আর এমন অভিজ্ঞতা পেতে যেতে হবে আইসল্যান্ডের থিংভ্যালাইর ন্যাশনাল পার্কের সিলফ্রা ক্র্যাক নামের একটি প্রণালিতে।

আইসল্যান্ডের প্রণালিটি আটলান্টিক মহাসাগরে মিশেছে। আর এ প্রণালিতেই দুই মহাদেশের মাঝে থাকা ফাটল খালি চোখে দেখা যায়। বাদবাকি সব স্থানে দুটো টেকটোনিক প্লেটের মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক বেশি হলেও সিলফ্রা ক্র্যাকে এখনো একজন মানুষ চাইলে ডুব দিয়ে দুহাত বাড়িয়ে দুটো সীমানা ছুঁতে পারে অনায়াসে।

এমনটা অবশ্য সবসময় থাকবে না। বছরে ২ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে ফাটলটি। আর তাই বছরে ২ সেন্টিমিটার করে আমেরিকান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের দূরত্বও বাড়ছে। এ দুটো টেকটোনিক প্লেট খুব সক্রিয়। তবে এখানকার পানি বেশ শীতল হওয়ায় কোনো ধরনের উত্তপ্ত লাভা বের হতে পারে না। লাভাগুলো শীতল হয়ে জমেই তৈরি হয়েছে এখানকার পর্বতমালা।

দুটো প্লেট সরে যাওয়ার পরপরই এখানে জমতে থাকে বরফগলা শীতল পানি। ঠান্ডার কারণে এখানে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এ কারণে এখানকার পানিও একদম স্ফটিক-স্বচ্ছ। যে কারণে ডুবুরিদের স্বর্গ বলা যায় এই সিলফ্রা ক্র্যাককে। সূর্যের আলো যখন পড়ে তখন পানির নিচে ১০০ গজ দূরের বস্তুও দেখা যায় পরিষ্কার। এমনকি পানির নিচে চকচকে স্ফটিকের কারণে দেখা যায় রংধনুও। আরও আছে নানা রঙের জলজ শৈবাল ও উজ্জ্বল নীলচে সবুজ অ্যালগি। এসবের কারণে বিশ্বের সেরা ১০টি ডাইভিং স্পটের মধ্যে সিলফ্রা ক্র্যাকও একটি।

সিলফ্রা ক্র্যাকের গভীরতা ৬৩ মিটার। তবে ডুবুরিরা ৭-১২ মিটার পর্যন্ত নামেন। ১৮ মিটারের বেশি গভীরে নামার অনুমতিই নেই। ধারণা করা হয়, ১৭৮৯ সালের ভূমিকম্পে থিংভ্যালাইর এলাকায় অনেক এমন খাঁজ তৈরি হয়েছিল। তবে সিলফ্রা ক্র্যাক তৈরির পেছনে মাটির তলদেশে বয়ে চলা বরফগলা নদীর স্রোতকেও দায়ী করা হয়।

এখানে ডুব দিতে সাহস লাগে বটে। কারণ টেকটোনিক কাজকর্ম সক্রিয় থাকায় এ অঞ্চলসহ গোটা আইসল্যান্ডই ভূমিকম্পপ্রবণ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com